রাজধানীর মুগদা থানায় করা একটি হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের একই আদেশের বিরুদ্ধে একাধিকবার জামিন আবেদন করার অভিযোগে তিন আইনজীবীকে ১৫ দিনের জন্য হাইকোর্টে আইন পেশা পরিচালনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিন আইনজীবী হলেন অ্যাডভোকেট আন্না খানম, অ্যাডভোকেট এস এম আব্দুল বাতেন সাকিল ও অ্যাডভোকেট রহিম উদ্দিন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ স্বত:প্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন। হাইকোর্ট এ তিন আইনজীবী, সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলার পাঁচ আসামি এবং জামিন আবেদনে তিন তদবিরকারকের (ডিপনেন্ট) উদ্দেশে রুল দিয়েছেন। রুলের নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হত্যা মামলায় পাঁচ আসামি আদালতে জামিনের আবেদন করতে পারবেন না বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনজুরুল আলম সুজন, রুকনুজ্জামান সুজা ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. এমদাদুল হানিফ। আইনজীবীদের তথ্য মতে, মুগদা থানায় সাইফুল হত্যার অভিযোগে করা এ হত্যা মামলায় ঢাকার নিম্ন আদালতে গত জুলাইতে পাঁচ আসামির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হয়। পরে আসামিপক্ষ জামিন পেতে হাইকোর্টে আবেদনের উদ্যোগ নেয়।
সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এমদাদুল হানিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, নিম্ন আদালতের জামিন নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটির বেশি ফাইল (আবেদন) করা যায় না। কিন্তু পাঁচজন আসামির পক্ষে পৃথকভাবে তিনজন আইনজীবী তিনটি মামলা এফিডেভিট (হলফনামা) ও ফাইল করেছেন। ইতোমধ্যে আবেদনগুলো একেক বেঞ্চে শুনানির জন্য আসছে।
তিনি বলেন, এই বেঞ্চে (বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের নের্তৃত্বে গঠিত বেঞ্চে) গত ১ অক্টোবর একটি জামিনের আবেদন আসে। তখন আমরা জানতে পারি এই মামলাতে একই আদেশকে (নিম্ন আদালতের) চ্যালেঞ্জ করে আরেকটি বেঞ্চে আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি হাইকোর্টের এই বেঞ্চের নজরে আনা হয় এবং হাইকোর্টও খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হলেন যে, আরও একটি আবেদন ফাইল হয়ে আছে।
অ্যাডভোকেট এমদাদুল হানিফ বলেন, হাইকোর্ট বিষয়টি কার্যতালিকায় এনে স্বত:প্রণোদিত রুল এবং আদেশ দিয়েছেন। হাইকোর্টের আদেশে ১১ জনকে ১৫ দিনের মধ্যে জবাব দিতে রুল দিয়েছেন। তিন আইনজীবীকে ১৫ দিন হাইকোর্টে শুনানি থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের উদ্দেশ্যে নির্দেশনায় বলেছেন, রুল নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে আসামিদের কোনো জামিনের আবেদন যেন গ্রহণ করা না হয়।