‘আসামি চতুর প্রকৃতির’: তাহসিফ হত্যায় দিশার আরও তিন দিনের রিমান্ড

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণকারী হিসেবে আলোচনায় আসা তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরিকে হত্যা মামলার ঘটনায় তাসনিম দিশাকে আরও তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।
 
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর ফিরোজ উদ্দিন আসামির ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী ইমাম হোসেন জাবেদ রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন জানান।
 

রিমান্ড আবেদনে সাতটি সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে বলা হয় যে, ‘চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। ‘আসামি অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির হওয়ায় অনেক প্রশ্নের জবাব কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। ঘটনার রাতে অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর উত্তরার নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট এবং উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রুয়াপ কমপ্লেক্সে সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকসে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে তাদের মধ্যে কোনো বাকবিতণ্ডা বা সম্পর্কের কোনো টানাপোড়ন ছিল কি না, তা যাচাই করা জরুরি।’
 
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, এছাড়া বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে থাকা অপর সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গে দিশার বক্তব্য ক্রস চেক করা এবং তাহসিফ সাউরির মোবাইল কল লিস্টের তথ্য মেলানো প্রয়োজন। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আলামত উদ্ধারের জন্য তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন বলে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।
 
শনিবার (৩১) রাত দুইটার দিকে কাফরুল এলাকা থেকে দিশাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরদিন তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছিল। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণকারী হিসেবে আলোচনায় আসা তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।
 
এর আগে ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরে ২৯ অক্টোবর দীপ দাবি করেছিলেন যে রেস্তোরাঁয় খাবার পর উত্তরা হাউস বিল্ডিং এলাকা থেকে তিনি আলাদা হয়ে যান। পরবর্তীতে ৩০ অক্টোবর রাতে তাহসিফের বাবা হত্যা মামলা দায়ের করলে দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
 
দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই গত ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। চার দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার দীপকেও পুনরায় তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত