শরীয়তপুরে জিনের তৈরি মসজিদ!

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার শিবপুর গ্রামে অবস্থিত প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন জিনের মসজিদ। মসজিদটির নির্মাণ নিয়ে এলাকায় প্রচলিত রয়েছে রহস্যময় নানা জনশ্রুতি। স্থানীয়দের বিশ্বাস, কোনো মানুষের হাতে নয়, বরং এক রাতের মধ্যে জিনরা নির্মাণ করেছিল মসজিদটি। সময়ের পরিক্রমায় এর বয়স ও নির্মাণ নিয়ে বিভিন্ন মত থাকলেও স্থাপত্যশৈলী ও লোককথার কারণে মসজিদটি আজও মানুষের আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে আছে।

এলাকাবাসীর ধারণা, আনুমানিক ৪০০ বছর আগে কোনো এক রাতে গড়ে ওঠে মসজিদটি। নির্মাণের আগের দিন পর্যন্ত যেখানে ছিল অথৈ পানি, এক রাতেই পানির ভেতর মাটি ফেলে কারুকার্যখচিত একটি মসজিদ নির্মাণ করা কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। নিশ্চয়ই এটা জিনের কাজ।

মসজিদটি নির্মিত হওয়ার পর প্রায় ৫০-৬০ বছর কেউ সেখানে নামাজ পড়তে যায়নি। কারণ তার আশপাশে তেমন কোনো বসতি ছিল না। যারা ছিল, তারাও ভয়ে মসজিদের কাছে যেতেন না। পরে বসতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু মানুষ নামাজ পড়তে যেতে শুরু করেন। মসজিদটি কে এবং কবে নির্মাণ করেছিলেন, তার নির্ভরযোগ্য লিখিত তথ্য পাওয়া যায় না। তবে তালুকদার পরিবারের বংশপরম্পরায় প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, এর বয়স প্রায় ৪০০ বছর। আবার কারও কারও মতে, বয়স সাড়ে ৪০০ বছর।

মসজিদটিকে ঘিরে এলাকায় প্রচলিত রয়েছে নানা কথা। জনশ্রুতি আছে, স্থানীয় এক ব্যক্তি মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু করলেও তা শেষ হওয়ার আগেই তিনি মারা যান। পরে এক রাতের মধ্যে জিনরা নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। এ ছাড়া জিনরা এখানে নামাজ ও ইবাদত করত বলেও স্থানীয়দের মধ্যে বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। এসব জনশ্রুতি থেকেই মসজিদটি ‘জিনের মসজিদ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। তবে এসব ঘটনার ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না।

চতুর্ভুজাকৃতির মসজিদটি প্রায় চার শতাংশ জমির ওপর নির্মিত। এতে রয়েছে একটি প্রধান গম্বুজ এবং চারপাশের সরু খুঁটির ওপর ছোট খিলানাকৃতির গম্বুজ। মসজিদের ভেতরের দেয়ালে মোগল স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন দেখা যায়। মূল ভবনে রয়েছে চারটি প্রবেশপথ। একসঙ্গে প্রায় ৩০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদের পশ্চিম পাশে রয়েছে একটি বড় পুকুর ও পাকা ঘাট, যা স্থাপনাটির ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মসজিদটির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। ফলে প্রাচীন স্থাপনাটির স্থাপত্যবৈশিষ্ট্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের উচিত মসজিদটির সংস্কার, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

শরীয়তপুর শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরত্বে সড়কপথে গোসাইরহাট উপজেলায় যাওয়া যায়। সেখান থেকে রিকশা বা মোটরসাইকেলে শিবপুর গ্রামে যাওয়া যায়। এ ছাড়া সদরঘাট থেকে সরাসরি লঞ্চ দিয়েও গোসাইরহাট যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

লেখক : সংবাদকর্মী