ফুটবল মাঠে জেসুস দে মিগেলের সেই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার পর মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন বিষুবাঞ্চলীয় গিনির তারকা গোলরক্ষক জেসুস ওউয়োনো। স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে তার সঙ্গে সংঘর্ষ ও পরবর্তীতে তার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের (আফকন) আসন্ন কোয়ালিফায়ার দল থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ২৫ বছর বয়সী এই তারকা।
৫ নভেম্বর ইকুয়েটোরিয়াল গিনি ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ওউয়োনোকে আফকন স্কোয়াডে না রাখার এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২ নভেম্বর স্প্যানিশ সেকেন্ড ডিভিশনের অ্যান্ডোরার ও তেনেরিফের মধ্যকার ম্যাচে। খেলা চলাকালীন আন্দোরার গোলরক্ষক ওউয়োনো এবং তেনেরিফের ফরোয়ার্ড মিগেলের মধ্যে মারাত্মক এক সংঘর্ষ হয়। মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পাওয়া মিগেলকে দ্রুত হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হলেও চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে ৩ নভেম্বর সকালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই ফুটবলার।
মাঠে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের এমন ট্র্যাজিক মৃত্যু এবং সাইডলাইনের বাইরের প্রবল মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে আফকন কোয়ালিফায়ারে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১২ ও ১৬ নভেম্বরের ম্যাচ দুটি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন ওউয়োনো।
সহখেলোয়াড়ের এই করুণ পরিণতির পর নিজেকে চরম অপরাধবোধ ও শোকে নিমজ্জিত অবস্থায় বর্ণনা করে ৪ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ওউয়োনো বলেন, ‘এগুলো আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও অন্ধকার দিন। কী ঘটেছে তা বিশ্বাস করতে বা মেনে নিতে আমার বড্ড কষ্ট হচ্ছে, মুখের ভাষাও যেন হারিয়ে ফেলেছি। আমি জানি সামনে আমাকে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে, এবং যা-ই আসুক না কেন আমি সর্বোচ্চ সম্মান দিয়ে তার মুখোমুখি হব। কিন্তু এই মুহূর্তে দে মিগুয়েল ও তাঁর পরিবারের এই অসীম যন্ত্রণা ছাড়া আমি আর কিছুই ভাবতে পারছি না। শান্তিতে থেকো, জেসুস।’
মাঠে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর সাইবার বুলিংয়ের শিকার হন ওউয়োনো। অনলাইনে কিছু অনুরাগী তাকে ‘খুনি’ আখ্যা দিয়ে কটূক্তি করায় ৩ নভেম্বর নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে দেন এই গোলরক্ষক। পরিস্থিতি বিবেচনায় ওউয়োনোর পাশে দাঁড়িয়ে ৩ নভেম্বর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইকুয়েটোরিয়াল গিনি ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, ‘ওউয়োনো এই মুহূর্তে গভীর শোক ও মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কঠিন এই সময়ে ফুটবল ফেডারেশন তাঁর পাশে রয়েছে এবং তাঁর এই সিদ্ধান্তকে আমরা পূর্ণ সম্মান জানাচ্ছি।’
কৈশোর থেকেই জাতীয় দলের মূল গোলরক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসা ওউয়োনো দেশের হয়ে টানা তিনটি আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কিন্তু মাঠের এক আকস্মিক ট্র্যাজেডি সাময়িকভাবে থামিয়ে দিল এই উদীয়মান গোলরক্ষকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার, যার রেশ হয়তো তাকেও বয়ে বেড়াতে হবে দীর্ঘদিন।