ইউরোপের বিভিন্ন দেশের একাধিক বিমান সংস্থা বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে আবারও বোমা হামলার হুমকি পেয়েছে। চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো এমন হুমকির ঘটনায় বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী বিমানকে নির্ধারিত গন্তব্যের বাইরে জরুরি অবতরণ করতে হয়েছে। কোনো কোনো বিমানকে নিরাপত্তার জন্য সামরিক পাহারায় অবতরণ করানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হুমকির সত্যতা পাওয়া যায়নি। খবর রয়টার্সের।
এসব ঘটনার জন্য কোনো দেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করা হয়নি। তবে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে 'হাইব্রিড হামলা' ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন। যদিও মস্কো ও তেহরান উভয়ই এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আয়ারল্যান্ডের বিমান সংস্থা অ্যার লিঙ্গাস জানিয়েছে, ডাবলিন থেকে রোমগামী তাদের ইআই৪০২ ফ্লাইটটি নিরাপত্তাজনিত সতর্কতার কারণে গতিপথ পরিবর্তন করে বৃহস্পতিবার প্যারিসের প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে এভ্রু বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
বুলগেরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বোমা হামলার হুমকির কারণে দেশটিতে তিনটি বিমানকে জরুরি অবতরণ করতে হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভি জানায়, কোপেনহেগেন ও মাদ্রিদ থেকে আসা দুটি বিমান নিরাপদে সোফিয়ায় অবতরণ করে। অন্যদিকে লন্ডন থেকে আসা তৃতীয় বিমানটিকে গতিপথ পরিবর্তন করে বুলগেরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর প্লভদিভে অবতরণ করানো হয়।
চেক পুলিশের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার প্রাগগামী চারটি বিমান বোমা হামলার হুমকি পেয়েছে। বিমানগুলো অবতরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হলেও হুমকিগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা কম বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে হেলসিংকি থেকে রোমগামী ফিনল্যান্ডের বিমান সংস্থা ফিনএয়ারের একটি বিমানকে ইতালির বিমানবাহিনী নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পাহারা দেয়। একই সংস্থার আরেকটি ফ্লাইট, যা জেটটাইম পরিচালনা করছিল, বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পরও স্বাভাবিক নিয়মে ভিয়েনায় অবতরণ করে।
পোল্যান্ডের বিমান সংস্থা লট জানিয়েছে, ওয়ারশ থেকে ব্রাসেলসগামী তাদের একটি বিমান নিরাপত্তা সতর্কতার পর গন্তব্যে নিরাপদে অবতরণ করেছে। তল্লাশিতে কোনো সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া প্যারিসগামী লটের আরেকটি বিমান উড্ডয়নের আগে রানওয়ের দিকে যাওয়ার সময় থামিয়ে দেওয়া হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে যাত্রীদের অন্য একটি বিমানে স্থানান্তর করা হয়।
ইতালির সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মিলান থেকে ওয়ারশগামী উইজ এয়ারের একটি বিমানও বোমা হামলার হুমকির কারণে ভিয়েনায় অবতরণ করতে বাধ্য হয়।
এর আগে মঙ্গলবার অন্তত সাতটি বিমান ও একটি প্রমোদতরিতে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এতে ইউরোপের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও কোথাও কোনো বিস্ফোরক বা বোমার সন্ধান মেলেনি।
এদিকে চলতি সপ্তাহে ইউরোপের কয়েকটি দেশের সুপারমার্কেটে সাইবার হামলার মাধ্যমে ফ্রিজ ও শীতলীকরণ ব্যবস্থা অচল করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন বিশেষজ্ঞের ধারণা, বিমানগুলোতে দেওয়া ভুয়া বোমা হামলার হুমকিও একই ধরনের স্বল্পব্যয়ী ও দায় অস্বীকার করা সম্ভব—এমন নাশকতামূলক তৎপরতার অংশ হতে পারে।
বিমান চলাচল খাতের সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সাইভিয়েশনের প্রধান নির্বাহী এলিরান আলমোগ বলেন, বারবার এ ধরনের হুমকি দেওয়ার উদ্দেশ্য শুধু বিমান চলাচল ব্যাহত করা নয়; বরং বিমান সংস্থা, বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষ কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে, তা পর্যবেক্ষণ করাও হতে পারে।
তিনি বলেন, ইউরোপজুড়ে সুপারমার্কেটের শীতলীকরণ ব্যবস্থায় সাইবার হামলার একই সময়ে বিমান চলাচল খাতেও এসব নিরাপত্তা হুমকির ঘটনা ঘটছে।
আলমোগের মতে, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতে এ ধরনের বিঘ্ন অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি জনসাধারণের আস্থাও দুর্বল করে দিতে পারে।