ইব্রাহিমকে নিয়ে বাজি ধরে সফল ডুলি, বিশ্বনাথকে বানাতে চান স্ট্রাইকার

ভুটানের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় দিয়ে টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শুভসূচনা করেছে বাংলাদেশ। জয়ের পর দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট প্রধান কোচ টমাস ডুলি। তবে শুধু জয় নয়, ম্যাচে খেলোয়াড়দের অবস্থান, আক্রমণভাগের দুর্বলতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। জানিয়েছেন, বাংলাদেশের একজন প্রকৃত নাম্বার নাইন প্রয়োজন। সেই শূন্যতা পূরণে বিশ্বনাথ ঘোষকে আক্রমণভাগে খেলানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি।

ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে ডুলি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে এই ম্যাচ নিয়ে আমি খুশি। আমাদের লক্ষ্য ছিল তিন পয়েন্ট পাওয়া, সেটি অর্জন করতে পেরেছি। প্রথমার্ধের ২০-৩০ মিনিট এবং দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় ২০ মিনিট আমরা দারুণভাবে বল দেওয়া-নেওয়া করেছি। অনেক সুযোগও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বক্সে আমাদের খেলোয়াড়ের সংখ্যা কম ছিল। প্রতিপক্ষের বক্সে সাত-আটজন খেলোয়াড় থাকলেও আমাদের ছিল মাত্র একজন বা দুজন। এই জায়গাটিতে পরিবর্তন আনতে চাই।’

আক্রমণভাগে বাংলাদেশের নাম্বার নাইন সংকট নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কোচ স্বীকার করেন, দলে প্রকৃত স্ট্রাইকারের অভাব রয়েছে। এ জায়গায় বিশ্বনাথ ঘোষকে নতুন ভূমিকায় দেখতে চান তিনি।

বিশ্বনাথকে নিয়ে ডুলির পরিকল্পনা বেশ পরিষ্কার। রক্ষণভাগে তাঁর আগ্রাসী খেলার ধরন কখনো কখনো ঝুঁকি তৈরি করে বলে মনে করেন কোচ। তাই সেন্টারব্যাকের পরিবর্তে আক্রমণভাগে তাঁকে বেশি কার্যকর মনে করছেন তিনি।

ডুলি বলেন, ‘আমাদের কোনো নাম্বার নাইন নেই। একজন খুঁজে বের করতে হবে। বিশ্বনাথ খুবই আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়। সে কখনো থামে না, পুরো শক্তি দিয়ে খেলে। একজন ডিফেন্ডারের জন্য তাকে সামলানো কঠিন। আক্রমণভাগে সে যে শক্তি নিয়ে আসে, সেটি আমাদের কাজে লাগাতে চাই।’

সান মারিনো সফরে রাইট উইংয়ে খেলিয়ে বিশ্বনাথের কাছ থেকে ভালো পারফরম্যান্স পেয়েছিলেন ডুলি। গোলরক্ষকের সঙ্গে ওয়ান-অন-ওয়ানে দুটি সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি দ্বিতীয় গোলে সহায়তাও করেছিলেন তিনি। তাই এবারও তাঁকে গোলের সামনে দেখতে চেয়েছিলেন কোচ। তবে ভুটানের বিপক্ষে গোল পাননি বিশ্বনাথ।

এদিকে ম্যাচের পাঁচ মিনিটের মধ্যে বদলি হিসেবে নেমে গোল করা ইব্রাহিমের প্রশংসাও করেছেন ডুলি। কোচ জানিয়েছেন, অনুশীলনে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েই জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। শুরুতে তাঁকে নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন না কোচ নিজেও।

ইব্রাহিমকে মাঠে নামানোর পেছনে ছিল কৌশলগত পরিকল্পনাও। বিশ্বনাথ ক্লান্ত হয়ে পড়ায় এমন একজন খেলোয়াড় প্রয়োজন ছিল, যিনি বল ধরে রেখে সতীর্থদের আক্রমণে ওঠার সুযোগ করে দিতে পারবেন। ইব্রাহিমকে নামিয়ে শামিতকে আরও সামনে খেলান ডুলি। তাঁর পরিকল্পনা ছিল ইব্রাহিমের মাধ্যমে আক্রমণ তৈরি করা এবং শামিতকে গোলের সামনে রাখা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেই গোল করে পরিকল্পনাকে আরও সফল করে তোলেন ইব্রাহিম।

বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও বক্সে খেলোয়াড়ের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন ডুলি। তাঁর মতে, উইং থেকে ক্রস আসার সময় নাম্বার টেন ও নাম্বার এইটকেও বক্সে পৌঁছাতে হবে। পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে মাঝমাঠে জায়গা না দেওয়ার কৌশলও আরও ভালোভাবে রপ্ত করতে হবে।

ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ কেন কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছিল, সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন কোচ। ক্লান্তির কারণে খেলোয়াড়েরা নিজেদের রক্ষণভাগের দিকে বেশি নেমে যাচ্ছিলেন। এতে ভুটান ফাঁকা জায়গা পেয়ে আক্রমণ গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়। বিরতির সময় খেলোয়াড়দের সামনে এগিয়ে গিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

এদিকে ম্যাচের আগে ওয়ার্ম-আপে চোট পাওয়ায় একাদশ থেকে ছিটকে যান তপু বর্মণ। তাঁর পরিবর্তে শেষ মুহূর্তে খেলানো হয় শাকিলকে। ডুলি জানিয়েছেন, তপু আগের দিন পর্যন্ত খেলার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু অনুশীলনে শট নেওয়ার সময় পেশিতে সমস্যা দেখা দেয়। সকালে সেই সমস্যা আরও বেড়ে যায়।

কোচ বলেন, ‘তপু বলেছিল সে ভালো বোধ করছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, ওয়ার্ম-আপের পর স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলে খেলবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সে নিজেই জানায়, খেলতে পারবে না। আমি স্পষ্ট করে দিয়েছিলাম, ৫০-৫০ ফিটনেস নিয়ে মাঠে নামা যাবে না। অন্তত ৮০ শতাংশ ফিট থাকতে হবে।’

তপুর পরিবর্তে মাঠে নেমে শাকিল ভালো দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও জানান ডুলি। সব মিলিয়ে জয়, ইব্রাহিমের গোল এবং রক্ষণভাগের সংগঠিত পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট বাংলাদেশ কোচ। তবে সামনের ম্যাচগুলোতে আক্রমণভাগের কার্যকারিতা বাড়ানোই তাঁর বড় লক্ষ্য।