ম্যাচের আগ মূহুর্তে ইনজুরিতে অধিনায়ক তপু বর্মনের ছিটকে যাওয়া। জামাল ভূঁইয়ার অধিনায়কত্ব ফিরে পাওয়া। ডিফেন্ডার বিশ^নাথকে ফরোয়ার্ডে খেলানো। দীর্ঘ সময় ধরে গোল না পাওয়া। এমন অনেক নাটকীয়তার এক ম্যাচে অবশেষ জয়ের হাসি নিয়েই মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা।
দূর্ভাগ্য তপুর। আগের দিন তাকে অধিনায়ক ঘোষণা করেন কোচ টমাস ডুলি। কিন্তু ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই নামতে পারলেন না মাঠে। ম্যাচের আগে ওয়ার্মআপের সময় মাসল কাপে ব্যাথা পাওয়ায় শেষ মূহুর্তে একাদশে পরিবর্তন আনতে হয় ডুলিকে। তার জায়গায় কাজেম শাহকে মাঠে নামানো হয়। যদিও সূত্রে জানা গেছে, আগে থেকেই ইনজুরিতে ছিলেন তপু। তাহলে কেন তাকে অধিনায়ক ঘোষণা করা হল, সে বিষয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। তপু ইনজুরিতে পড়ায় অধিনায়কের আর্মব্যান্ড তুলে দেওয়া হয় জামাল ভূঁইয়ার হাতেই। অন্যদিকে ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল না পাওয়ার পেছনে বুমেরাং হয়েছে কোচ টমাস ডুলি তত্ব। কারণ ডিফেন্ডার বিশ^নাথ ঘোষকে ফরোয়ার্ড হিসাবে মাঠে নামান তিনি।
সাফের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে সঞ্জয় করিমের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন করেন। এ সময় বাংলাদেশ ও ভুটান দলের ফুটবলারদের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি।
ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল মিসের মহড়া দেয় বাংলাদেশ। যদিও বল পজিশন ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরাই। বিশেষ করে ভুটানের অর্ধেই বল ছিল অনেক সময়। ডান প্রান্ত দিয়ে রাকিব বেশ কয়েকবার বক্সে প্রবেশ করেন। তার ক্রসে একবার বিশ্বনাথ মাথা ছোয়ালেও বল বাইরে দিয়ে যায়। আবার কখনো তার নেয়া শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বিশ্বনাথের পজিশন বদলে অনভন্ততা প্রথমার্ধে স্পষ্ট হয়েছেত। বাংলাদেশের কৌশল অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশ প্রথমার্ধে বল পজিশন বেশি থাকলেও পরিকল্পিত আক্রমণ সেভাবে করতে পারেনি। ভুটান ম্যাচের বেশিরভাগ সময় লো ব্লকে খেলেছিল।
৮ মিনিটে জামাল ভূঁইয়ার কর্নার থেকে ভুটানের এক ডিফেন্ডার বল ক্লিয়ার করলে তা পান ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। দ্বিতীয় চেষ্টায় ডান পায়ের শটে গোলের চেষ্টা করেন তিনি। তবে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার প্রচেষ্টা রুখে দেন ভুটানের গোলকিপার গিলশেন জাংপো। এর কিছুক্ষণ পর সাদ উদ্দিনের সঙ্গে লড়াইয়ে চোট পান তিসেরা ওয়াংচুক। তাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যেতে খেলা কিছু সময় বন্ধ থাকে। পরে মেডিকেল স্টাফদের সহায়তায় টেন্ট থেকে বেরিয়ে যান ভুটানের এই ফুটবলার।
১২ মিনিটে শমিত সোমের হেড গোলকিপারের হাত ফসকে বেরিয়ে গেলে বলের দিকে ছুটে যান বিশ্বনাথ। কিন্তু দারুণ ক্ষিপ্রতায় তার ওপর দিয়ে লাফিয়ে বল আবারও নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন জাংপো। ১৭ মিনিটে রাকিব হোসেনের ক্রস থেকে বিশ্বনাথের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২৫ মিনিটে শমিত সোমের শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন জাংপো। কর্নার থেকে তৈরি হওয়া জটলার মধ্যে বিশ্বনাথের ভলি দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। ৩৮ মিনিটে আবারও সুযোগ পেয়েছিলেন বিশ্বনাথ। তবে তার শট পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর রাকিব হোসেনের প্রচেষ্টাও দ্বিতীয় দফায় ক্লিয়ার করেন জাংপো। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আরও চাপ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। একাদশে ৫ জন প্রবাসীর কোন নৈপূণ্যই দেখা গেল না।
দ্বিতীয়ার্ধেও গোল মিসের মহড়া দেখা গেল। বার বার ভুটানের বিপদ সীমানায় আক্রমন করেও গোলের দেখা মিলছিল না। বিরতির পর ফাহিমের বদলি হিসেবে ফাহামেদুল ইসলামকে মাঠে নামান কোচ ডুলি। তবে আক্রমণে তাতে ধার বাড়েনি খুব একটা। উল্টো ৪৫ থেকে ৬৪ মিনিট পর্যন্ত সময়ে ভুটানের দখলে থাকে মধ্যমাঠ, দুএকবার বাংলাদেশের রক্ষণেও আতঙ্ক ছড়ায় দলটি। ৬৫তম মিনিটে জামালের জায়গায় সোহেল রানা এবং বিশ্বনাথকে বদলি করে ইব্রাহীমকে নামানো হয়। দুজন নামতেই ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। মিনিট তিনেক পর বন্ধ্যান্তকা ঘুচান সেই ইব্রাহিম।
বক্সের বাইরে জায়ানের বাড়ানো লং বলে রাকিব হেডে বল ফিরে আসলে শমিত সোমের ফিরতি হেড ভুটানের ডিফেন্ডারের সঙ্গে ডিফ্লেক্ট হয়ে যায় ইব্রাহিমের কাছে। সুযোগ পেয়ে কোনো ভুল করেননি ফর্মে থাকা এই ফরোয়ার্ড। ডান পায়ের শটে গোল করেন ফর্টিস এফসির ইব্রাহিম। বাংলাদেশ ম্যাচে এগিয়ে যায় ১-০ গোলে। গগণবিদারী চিৎকারে মেতে উঠে গ্যালারির হাজার হাজার দর্শক। শেষ দিকেও বাংলাদেশ বেশ কিছু আক্রমন করেছিল, কিন্তু আর কোন গোলের দেখা মেলেনি স্বাগিতক শিবিরে। ফলে ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে জামাল ভূঁইয়া বাহিনী। যদিও ম্যাচ শেষে দুই দলের ফুটবলাররা হাতহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু তা বড় পর্যায়ে যায়নি। ১১ নভেম্বর গ্রুপের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে শ্রীলংকার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।