অন্ধকারে পেঁচা কেন ভালো দেখে

সাধারণত ঘুমানোর সময় বা দিনের অতিরিক্ত কড়া আলো  থেকে চোখ সুরক্ষিত রাখতে পেঁচা নিচের পাতা তুলে চোখ বুঁজে থাকে। তাদের চোখের পাতা মানুষের চেয়ে আলাদা। মানুষের মতো পেঁচার চোখের বল গোলাকার নয়, বরং টিউবের মতো লম্বা এবং হাড়ের রিং দিয়ে মাথার খুলির সঙ্গে শক্তভাবে আটকানো। ফলে তারা ডানে-বামে চোখ ঘোরাতে পারে না। পেঁচার চোখে প্রচুর ‘রড সেল’ থাকায় এরা রাতের অন্ধকারে ভালো দেখে। তবে দিনের অতিরিক্ত তীব্র আলো থেকে চোখ বাঁচাতে বা বিশ্রাম নেওয়ার সময় তারা চোখ বন্ধ করে রাখে। তবে পেঁচা দিনেও দেখে। কিন্তু তাদের চোখে রড কোষের পাশাপাশি কেন কোষও থাকে, যা দিনের আলোতে রঙ চিনতে সাহায্য করে। তবে তাদের চোখে রড কোষের পরিমাণ অনেক বেশি বলে তারা রাতের অন্ধকার বা মৃদু আলোতে মানুষ বা অন্যান্য পাখির চেয়ে ভালো দেখতে পারে। পেঁচার চোখ অনেক বড়, এর ফলে আলোর পরিমাণ বেশি প্রবেশ করে। দিনে অতিরিক্ত বা তীব্র আলোয় তাদের চোখের পিউপিল মানুষের মতো পুরোপুরি সংকুচিত হতে পারে না। ফলে অতিরিক্ত আলো তাদের সহ্য করতে কষ্ট হয় এবং আরাম পাওয়ার জন্য তারা দিনের বেলায় চোখ কুঁচকে রাখে। তারা মূলত নিশাচর পাখি। রাতের অন্ধকারে শিকার ধরা ও চলাফেরা করার জন্য তাদের শরীর ও দৃষ্টিশক্তি বেশি উপযোগী। পাতার কারণে বিশ্রামের সময় পেঁচার চোখ পুরোপুরি ঢাকা থাকে। বুনো পরিবেশে বেশিরভাগ পেঁচার গড় আয়ু ৫-১৫ বছর।