গার্হস্থ্য অর্থনীতির অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে গভীর রাতে বিক্ষোভ

রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন নেছার পদত্যাগ ও অপসারণের দাবিতে গভীর রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ও সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষকে তার কার্যালয়ে টানা প্রায় ১৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। অধ্যক্ষ অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হলেও শিক্ষার্থীরা গভীর রাত পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যান এবং রাত ২টা ১০ মিনিটে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সেদিনের মতো কর্মসূচি স্থগিত করেন।

লালবাগ থানার ওসি জামিল হোসেন রাতে বলেন, অপসরণের দাবিতে সকাল থেকেই অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেসাকে অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানান। পরে রাত ১১টার দিকে পুলিশ খবর পেয়ে কলেজের ভেতরে ঢুকে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

ওসি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি কোনো এক অনুষ্ঠান গভীর রাত পর্যন্ত চলার কারণে দুজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। এছাড়া কলেজের ক্যান্টিনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে তারা অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করে আসছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা দিনভর অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

শিক্ষার্থীদের পক্ষে তামান্না ইসলাম বলেন, দাবি আদায়ে সকাল ৮টা থেকে আবার কর্মসূচি পালন করবেন তারা। তবে শুক্রবারের নিয়োগ পরীক্ষার সময় আন্দোলন বন্ধ রাখবেন এবং পরীক্ষা শেষে আবার তা শুরু করবেন।

এর আগে শম্পা আখতার নামে এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, কলেজের অধ্যক্ষ একটা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের দুই ছাত্রীর সিট বাতিল করেছে। ঘটনা হচ্ছে, পূজার আগে একটা অনুষ্ঠান হয় অডিটোরিয়ামে। সেখানে আমরা সময়মত শেষ করতে পারিনি। তাই তিনি আমাদের দুজন শিক্ষার্থীর সিট বাতিল করে। পরে আমরা মাফ চাইলে তিনি আমাদের কাছে সাড়ে ১২ হাজার টাকা অডিটোরিয়ামের বিল দিতে বলেন। আমরা তো শিক্ষার্থী এত টাকা কোত্থেকে দেব? এজন্য আজকে আন্দোলন করেছি। রাতে তিনি আমাদের পুলিশ এনে পিটিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছ অধ্যাপক মেহেরুন্নেসা বলেন, শিক্ষার্থীরা মিথ্যাচার করছে। তারা ১০টার প্রোগ্রাম ভোর ৫টায় শেষ করেছে। এজন্য তাদেরকে শাস্তি দিয়েছি। তবে তারা যখন মাফ চেয়েছে, আমি তাদের ক্ষেত্রে নমনীয় হয়েছি। কিন্তু কলেজের তো কিছু রুলস আছে। তারা যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে, তার বিল তো দিতে হবে। আমার অপরাধ কোথায় বলেন?

শিক্ষার্থীদের দাবি হল- শুক্রবার ক্যাম্পাসে সরকারি কোনো পরীক্ষা হবে না। ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীদের ওপর ‘লাঠিচার্জ করা’ পুলিশ সদস্যদের শোকজ করতে হবে। অধ্যক্ষ পদত্যাগের লিখিত পত্র না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সকল কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। যেসব শিক্ষক ও কর্মচারী ‘হামলাকে’ বৈধতা দিয়েছে তাদেরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা।