তানজানিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা তুন্দু লিসুর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার রায় আজ

দীর্ঘ ১৯ মাস কারাবন্দি থাকার পর আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তানজানিয়ার প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা তুন্দু লিসুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তার মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে। মামলাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

বাসস জানায়, গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়ে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে লিসুকে গ্রেপ্তার করা হয়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

২০২৫ সালের অক্টোবরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে তানজানিয়ার প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসানের সরকারবিরোধী রাজনীতিক ও সমালোচকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। এর জেরে নির্বাচনের সময় দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

বিরোধী দল ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা ৫১৮ বলে জানিয়েছে তানজানিয়া সরকার।

লিসুর মামলার রায়কে কেন্দ্র করে চলতি সপ্তাহে দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী দারুস সালামে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কাম এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে নতুন করে দেশটিতে অস্থিরতা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

লিসুর দল চাদেমা রায় ঘোষণার দিন বিপুলসংখ্যক সমর্থককে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

বুধবার (৫ নভেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে সতর্ক করে তানজানিয়া পুলিশ বলেছে, কিছু ব্যক্তি অভ্যুত্থান ঘটানোর পরিকল্পনা করছে। এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন গোষ্ঠী দারুস সালামে যাওয়ার জন্য লোকজনকে সংগঠিত করছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ।

লিসুর বিরুদ্ধে করা এই মামলা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সমালোচনা এসেছে। তানজানিয়ার প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তারা লিখেছেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান প্রয়োগের চেষ্টা বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ারে পরিণত করার ঝুঁকি তৈরি করে।’

মূল ভূখণ্ড তানজানিয়ার ইতিহাসে এটি তৃতীয় কোনো আলোচিত রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা। এর আগে ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে এ ধরনের আরও দুটি মামলা হয়েছিল। মামলা দুটির আসামিদের বিরুদ্ধে দেশটির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস নায়ারেকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

বর্তমান মামলায় লিসুর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। তবে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।