হাসানের রেকর্ডের পর হৃদয়-মুশফিকের ব্যাটে প্রতিরোধের ভরসা 

হাসান মাহমুদের রেকর্ড গড়া স্পেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রানে বেঁধে ফেললেও, ব্যাটিংয়ে নেমে আরও একবার চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। এদিকে দিনের শুরুতেই চোটের কারণে ওপেনার সাদমান ইসলাম মাঠ ছাড়া ছিল পাল্টা আরেক ধাক্কা, যার ফলে ইনিংসের সূচনা করতে নামেন লোয়ার-অর্ডার ব্যাটার নাঈম হাসান। তবে মিরপুরের ব্যাটিং সিলেটের ফিরিয়েও দিনের শেষ ভাগে দলীয় ৫১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে যখন বাংলাদেশ দল কোণঠাসা, তখন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও তাওহীদ হৃদয়ের প্রতিরোধে আর কোনো বিপদ ছাড়াই শেষ হয় দ্বিতীয় দিনের খেলা।

দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪০ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৮ রান। এতে এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে আছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

এর আগে সিলেট টেস্টের প্রথম দিনটা দুর্দান্ত শুরু করেও শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল বাংলাদেশ দলকে। সকালে পেসারদের আগুনে বোলিংয়ে সফরকারীদের ব্যাকফুটে ঠেলে দিলেও দিন শেষে আমির জাঙ্গুর সেঞ্চুরি এবং শেষ সেশনের প্রতিরোধে শক্ত অবস্থানে চলে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আলোকস্বল্পতার কারণে প্রথম দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে সফরকারীদের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছিল ৭০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান। 

তবে আজ ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের সকালটি শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। শুরুতেই বল হাতে জাদু দেখান হাসান দিনের প্রথম সেশনেই বিধ্বংসী বোলিং করে একে একে তুলে নেন ক্যারিবীয়দের বাকি ব্যাটারদের উইকেট। দুর্দান্ত ডেলিভারিতে সেঞ্চুরিয়ান আমির জাঙ্গুকে বোল্ড করার পাশাপাশি রস্টন চেজ ও জশুয়া বিশপকে ফিরিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম এবং দেশের মাটিতে প্রথম ফাইফারের স্বাদ পান এই পেসার। সঙ্গে গড়েন বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ পাঁচটি ৫ উইকেট নেওয়ার নতুন রেকর্ড। পরের আরও একটি উইকেট নেন হাসান।

শেষ পর্যন্ত জাইডেন সিলসকে মেহেদী হাসান মিরাজ ফিরিয়ে দিলে প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জাঙ্গুর ১৩৩ রানের পাশাপাশি জাস্টিন গ্রিভসের ৫১ ও উইকহ্যামের ৬১ রান উইন্ডিজকে বড় সংগ্রহ এনে দেয়। এদিকে হাসানের ৬ উইকেট বাদে দুটি করে উইকেট নেন তাসকিন ও মিরাজ। 

তবে ফিল্ডিংয়ের সময় বড় এক বিপদে পড়ে বাংলাদেশ দল। দিনের অষ্টম ওভারে বাউন্ডারি আটকাতে গিয়ে বাঁ পায়ের গোড়ালিতে গুরুতর চোট পান ওপেনার সাদমান ইসলাম। তীব্র ব্যথায় কাতরাতে থাকা এই বাঁহাতি ব্যাটারকে পরবর্তীতে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়মানুযায়ী বদলি ব্যাটার নামানোর সুযোগ না থাকায় বাংলাদেশ দল বাধ্য হয়ে ১০ জন ব্যাটার নিয়ে খেলার সংকটে পড়ে।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। সাদমানের অনুপস্থিতিতে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন স্পিন অলরাউন্ডার নাঈম হাসান ও তানজিদ হাসান। তবে সিলসের শর্ট বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন আগের টেস্টে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি করা নাঈম। এরপর তানজিদ হাসানও (১৬) জাস্টিন গ্রিভসের বলে অসাধারণ এক ক্যাচের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। দলীয় ২২ রানের মাথায় দুই ওপেনারকে হারিয়ে দল যখন চরম চাপে, তখন প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক শান্ত ও হৃদয়। সাবলীলভাবে এগোলেও শামার জোসেফের একটি নিখুঁত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ১৮ রান করে বিদায় নেন শান্ত।

৫১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে দিনের বাকি সময় আর কোনো বিপদে পড়তে দেননি হৃদয় ও অভিজ্ঞ রহিম। চতুর্থ উইকেট জুটিতে এই দুই ব্যাটার অত্যন্ত সতর্ক ও দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে অবিচ্ছিন্ন থেকে দিন পার করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ১০৬.৩ ওভারে ৩৫৬ অলআউট (আমির জাঙ্গু ১৩৩, উইকহ্যাম ৬১, গ্রিভস ৫১, বিশপ ২৩, ওয়ারিক্যান ২৭*, সিলস ১৫, জোসেফ ১৬*; হাসান ৬/৯০, তাসকিন ২/৯০, মিরাজ ২/৮২, তাইজুল ০/৫৪, নাঈম ০/৩৭)।

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস*: ৪০ ওভারে ৮৮/২ (হৃদয় ২৯*, মুশফিক ১৯*, শান্ত ১৮; গ্রিভস ১/১০)

এই মুহূর্তের চিত্র: ২৬৮ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ