মোস্তফা হত্যা মামলায় আসামি বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন

নড়াইল সদর উপজেলার পলাইডাঙ্গা গ্রামে মোস্তফা কাজী হত্যা মামলার অভিযোগপত্র থেকে গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী। অভিযোগপত্রে বাদ পড়া আসামিদের পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

স্থানীয় ভদ্রবিলা বাজারে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মামলার বাদী ও নিহতের ছেলে কাজী আমজাদ হোসেন, সমাজসেবক মুনসুর আলী, জামান শেখসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

Narail Murder Humanchain Photo- (7)

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নড়াইল সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাগর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত না করে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের অভিযোগপত্র থেকে বাদ দিয়েছেন। পরে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। হত্যা মামলায় ২৮ জনকে আসামি করা হলেও হুকুমের আসামিসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেকের নাম এজাহার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তদন্তের সময় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের বক্তব্য এবং মামলার বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।

বক্তারা আরও বলেন, হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামিরা অভিযোগপত্র থেকে বাদ পড়লে প্রকৃত অপরাধীরা বিচারের বাইরে থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছে।

এ সময় তাঁরা মামলাটির নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত, তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধান এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

Narail Murder Humanchain Photo- (8)

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাগর। তিনি বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাক্ষীদের জবানবন্দী এবং তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও বিভিন্ন সোর্সদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করে মামলার চার্জশীট আদালতে দাখিল করেছি। আমার বিরুদ্ধে যে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয়।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩ জুলাই বিকেলে ভদ্রবিলা ইউনিয়নের পলাইডাঙ্গা গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মোস্তফা কাজীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে কাজী আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন।