বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে ব্যাহত করার প্রচেষ্টা জনগণ উপযুক্তভাবেই প্রতিহত করবে। সরকার এ ব্যাপারে সদা প্রস্তুত।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন ফ্যাসিস্টদেরকে নিজের কোর্টে আনার জন্য, নিজের আঙ্গিনায় আনার জন্য আপনাদের যদি কোনো প্রচেষ্টা থাকে এবং সেই প্রচেষ্টায় যদি মদদ থাকে, তাহলে সেটাও জনগণ কখনোই ক্ষমা করবে না’। রিজভী আরও বলেন, দেশবাসী এবং এ দেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় বলিয়ান হয়ে সকল অগণতান্ত্রিক এবং দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে প্রস্তুত। ‘৭ নভেম্বরের যে চেতনা-গণতন্ত্রের চেতনা, স্বাধীনতা রক্ষার চেতনা, সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করার চেতনা; এই চেতনায় বারবার এই জাতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘১৭ বছরের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রজনতা রাজপথে নেমে এসে ২০২৪ এর জুলাইয়ে এক যুগান্তকারী, এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট রক্ত পিপাসু একনায়ক শেখ হাসিনার পতন ঘটায়। এই আন্দোলনের পেছনেই ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা। ৭ নভেম্বরের যে তিনটি অঙ্গীকার—স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের অব্যাহত ধরা, এই প্রত্যয় নিয়ে আবার জুলাই এ দেশের মানুষ বিপ্লবে নেমে আসে এবং অপশক্তিকে, গণতন্ত্রবিরোধী শক্তিকে পরাজিত করে। তারপর অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে।’
তারেক রহমান মিথ্যা আশ্বাস, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেননি উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘তিনি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে প্রতিষ্ঠার জন্য আজকে বাংলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত ছুটে বেড়াচ্ছেন।’
‘সেই ফ্যাসিস্টদের মতো বাড়িতে বাড়িতে চাকরির কথা বলেননি, বিনামূল্যে সারের কথা বলেননি। তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় আসলে বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড দেবে, কৃষক কার্ড দেবে, হতদরিদ্র মানুষদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগের জন্য এই ব্যবস্থা তিনি করবেন এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দুই-তিনদিন পর থেকেই তিনি এই কাজগুলো শুরু করেছেন’।