মুমিনুলকে ছাড়িয়ে দুইশ’র পথে হৃদয়, বাংলাদেশ ৩১৮/৮

দলের বিপর্যয় অবস্থা সামলে ব্যক্তিগত ইনিংস সেঞ্চরি, ১৫০ পেরিয়ে এখন ঐতিহাসিক মুহূর্তের পথে তাওহীদ হৃদয়। মুমিনুল হকের রেকর্ড গুঁড়িয়ে দিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরির দুয়ারে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এতে সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টের তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশন শেষে বাংলাদেশ দল তিনশ রানের গণ্ডি পেরিয়ে লড়াইয়ে দারুণভাবে ফিরে এসেছে। 

একপ্রান্ত আগলে রাখা হৃদয় ২৮৯ বলে ব্যক্তিগত ১৯০ রান নিয়ে চা-বিরতিতে গেছেন তাসকিনকে নিয়ে। ৮ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩১৮ রান। উইন্ডিজকে ছাড়িয়ে যেতে আর দরকার ৩৮ রান। অবশ্য এটিই শেষ উইকেট, কারণ গতকাল চোট পাওয়া সাদমান এই ইনিংসে ব্যাট করবেন না।

দিনের দ্বিতীয় সেশনটি পুরোপুরি নিজেদের নামে করে নিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। লাঞ্চের পর থেকে তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে উইন্ডিজ বোলারদের ওপর রীতিমতো শাসন চালিয়ে গেছেন হৃদয়। এই সেশনে তাইজুলের সঙ্গে অষ্টম উইকেটে তাদের জুটি থেকে এসেছে মূল্যবান ১১৭ রান, যা সিলেটের মাঠে এই উইকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। 

সেশনের শেষভাগে জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে তাইজুল স্টাম্পড হয়ে ২২ রান করে বিদায় নিলেও ততক্ষণে দলের স্কোর পৌঁছে যায় ৩০১ রানে। এর আগে দেড়শ রানের ঘর পেরিয়ে মুমিনুল হকের ২০১৩ সালের ১৮১ রানের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান হৃদয়, যা টেস্ট অভিষেকে বা প্রথম সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশি কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ইনিংসের নতুন ইতিহাস গড়েছে।

এদিকে দিনের শুরুটা অবশ্য মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না বাংলাদেশের জন্য। তৃতীয় দিনের সকালে আগের দিনের স্কোরের সঙ্গে দলের রান বাড়ানোর মিশনে নামলেও শুরুতেই ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। একই জায়গায় একই কায়দায় আউট হয়েছেন মুশফিক (৩৪) ও লিটন (৮)। দুজনকেই আউট করেছেন ওয়ারিক্যান, আর দুজনের ক্যাচটাও নিয়েছেন ব্রেন্ডন কিং।

পরবর্তীতে মিরাজ ১৬ রানে ও হাসান মাহমুদ দ্রুত সাজঘরে ফিরলে বড় বিপদে পড়ে দল। তবে একপ্রান্তে নেমে সেই বিপর্যয়কে শক্তিতে রূপ দেন হৃদয়। এই সেশনের এক পর্যায়ে (৮৫তম ওভারে) জেডেন সিলসের একটি বাউন্সার সোজা গিয়ে আঘাত করে তাঁর বুকের পাঁজরে, যার ফলে যন্ত্রণায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এই তরুণ ব্যাটার। মাঠে ফিজিওর প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সামান্য বিরতির পর ফের ব্যাট হাতে নামেন তিনি। সেখান থেকে ইনিংসটাকে নিয়ে যাচ্ছে ডাবল সেঞ্চুরির দিকে।