কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত ১

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত চালানো এ হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শিশুসহ আটজন। হামলায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোর পাশাপাশি দিনিপ্রো নদীর ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর ফ্রান্স২৪ এর।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো বলেন, রাশিয়া কয়েক দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি উত্তরাঞ্চলীয় সেতুতে আঘাত হানে। হামলার পর কিয়েভে বিদ্যুৎ, তাপ ও পানি সরবরাহের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। শনিবার সকালে শহরটির তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি ছিল।

কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, ওই অঞ্চলের অন্তত তিনটি জেলার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হয়েছে। এতে আবাসিক ভবনসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় নিহত একজনের পাশাপাশি আহত আটজনের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের সামরিক ও শিল্প খাতের স্থাপনা এবং কিয়েভ ও আশপাশের এলাকার জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে।

ফ্রান্স ২৪-এর ইউক্রেন প্রতিনিধি ইমানুয়েল শাজে জানিয়েছেন, রুশ হামলায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় মানুষ প্রতিদিন মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। ঘরে তাপের ব্যবস্থা নেই। প্রতিদিনই পানি সরবরাহ বন্ধ থাকছে।

তিনি আরও জানান, সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকোর সমালোচনা অব্যাহত রেখেছেন। জেলেনস্কির মতে, পুরো দেশের মধ্যে কিয়েভই এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবচেয়ে কম প্রস্তুত। এদিকে রুশ হামলার পর চেরনিহিভ শহর সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

গত সাড়ে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা জোরদার করেছে মস্কো। স্থলযুদ্ধের অগ্রগতি অনেকটা থমকে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। এরই মধ্যে কিয়েভের বিভিন্ন সেতুও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এতে শহরটিতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

শনিবারের হামলায় মধ্যাঞ্চলীয় ঝিতোমির অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই অঞ্চলের গভর্নর ও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন করে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর আগে অনুষ্ঠিত আলোচনাগুলো থেকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসেনি।

অন্যদিকে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের কোমিশুভাখা গ্রামে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত সোমবার রাশিয়ার একাধিক গাইডেড বোমার আঘাতে গ্রামের একটি সাবেক স্কুল ও পাশের আশ্রয়কেন্দ্র বিধ্বস্ত হয়। ওই সময় সেখানে মানবিক সহায়তা নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ হয়েছে।