রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সাম্প্রতিক স্থানীয় যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিকতায় আরও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে দুই দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। খবর আল জাজিরার।
হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ফার্স্ট লেডি ব্যক্তিগত উদ্যোগে যুদ্ধে লিপ্ত দুই দেশের প্রতিনিধিদের কূটনৈতিক আলোচনার জন্য হোয়াইট হাউসে একত্র করেছেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ, রাশিয়ার মানবাধিকার কমিশনার ইয়ানা লান্ত্রাতোভা, ইউক্রেনের পার্লামেন্টের ক্ষমতাসীন সার্ভেন্ট অব দ্য পিপল পার্টির নেতা দাভিদ আরাখামিয়া এবং দেশটির পার্লামেন্টের মানবাধিকার কমিশনার দিমিত্রো লুবিনেৎস।
গত ২৭ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলের রুশ-অধিকৃত ওলেশকি শহর ও আশপাশের এলাকায় ছয় দিনের স্থানীয় যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল।
বৈঠকে মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতির চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী কিছু গড়ে তুলতে পারি।’ ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে সাম্প্রতিক মানবিক যুদ্ধবিরতিকে তিনি ‘অন্ধকারের পৃথিবীতে আশার স্ফুলিঙ্গ’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দুই দেশের স্বাক্ষরিত লিখিত চুক্তিতে তাকে ‘একমাত্র মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ার পরিকল্পনার প্রতিটি ধাপে তিনি যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে ছিল মাইন অপসারণ পরিকল্পনা পর্যালোচনা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার পথ নির্ধারণ।
এদিকে ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা মেলানিয়া ট্রাম্পের হাতে ‘অর্ডার অব প্রিন্সেস ওলগা’ পদক তুলে দেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চলতি সপ্তাহের শুরুতে তাকে এই সম্মাননা দেওয়ার ঘোষণা দেন। বৈঠকে উপস্থিত দুই দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের হাতে পুতিন ও জেলেনস্কির উদ্দেশে লেখা চিঠিও তুলে দেন মেলানিয়া।
ছয় দিনের যুদ্ধবিরতিতে প্রায় ৮০০ জনকে সরিয়ে নেওয়া
রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলের ওলেশকি শহর ও আশপাশের এলাকায় গত ২৭ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত। ছয় দিনের ওই যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। এ সময় সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রায় ৮০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
শহরটিতে তখন আনুমানিক দুই হাজার বেসামরিক নাগরিক আটকা ছিলেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি। পাশাপাশি চার বছর আট মাসের মধ্যে এটিই ছিল দুই দেশের প্রথম যৌথ ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান।
হোয়াইট হাউসের দাবি, মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। তবে পোপ লিও চতুর্দশও দুই পক্ষকে ত্রাণ সরবরাহ ও বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। ফলে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কার ভূমিকা কতটা ছিল, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে।
গত রবিবার কোনো মেয়াদ বৃদ্ধি ছাড়াই যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটে। এর পরদিনই ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কোমিশুভাখা এলাকায় ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে রাশিয়ার বোমা হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।
এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নতুন দফার আলোচনা আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।