যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর আল-সাইয়েদের দায়িত্ব কি ও বেতন কত?

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ড. আবদুল আল-সাইয়েদ। মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। সিনেটে তাঁর দায়িত্ব, আইন প্রণয়নে ভূমিকা, ক্ষমতা এবং বার্ষিক বেতন নিয়ে ইতিমধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

মার্কিন সিনেটের সদস্য হিসেবে আগামী ৩ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে দায়িত্ব পালন শুরু করার কথা তাঁর। দেশটির জাতীয় নীতিনির্ধারণ, আইন প্রণয়ন, সরকারি নিয়োগ অনুমোদন এবং পররাষ্ট্রনীতিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে ভূমিকা রাখবেন তিনি।

সিনেটরের বেতন কত?

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, একজন সাধারণ সিনেটরের বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৭৪ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় ডলারের বিনিময় হার অনুযায়ী এর পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে মাসিক বেতন দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লাখ টাকা। তবে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার পরিবর্তিত হলে বাংলাদেশি মুদ্রায় বেতনের পরিমাণও পরিবর্তিত হবে।

সিনেটরের দায়িত্ব ও ক্ষমতা

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আইনসভা কংগ্রেসের দুটি কক্ষের একটি হলো সিনেট। এটি উচ্চকক্ষ হিসেবে পরিচিত। দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে মোট ১০০ জন সদস্য সিনেটে প্রতিনিধিত্ব করেন।

সিনেটর হিসেবে আল-সাইয়েদের কাজ শুধু আইন প্রণয়নের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা কিংবা ভোট দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। জাতীয় বাজেট, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নিয়োগ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং প্রেসিডেন্টের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা থাকবে।

আইন ও বাজেট প্রণয়ন: জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিল নিয়ে আলোচনা, সংশোধনী প্রস্তাব এবং চূড়ান্ত ভোটে অংশ নিতে পারবেন আল-সাইয়েদ। স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধের দাম, সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন খাতের আইন প্রণয়নে তাঁর ভোট গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সাধারণত সিনেটে কোনো বিল পাসের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে বিলের ওপর চূড়ান্ত ভোটে যেতে ৬০ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ অনুমোদন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বিচারিক পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থী মনোনীত করেন। তবে মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ চূড়ান্ত করতে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। মনোনীত ব্যক্তিদের যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের পর তাঁদের নিয়োগ অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন আল-সাইয়েদ।

আন্তর্জাতিক চুক্তি ও যুদ্ধনীতি: অন্যান্য দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রেও সিনেটের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। কোনো চুক্তি অনুমোদনের জন্য উপস্থিত সিনেটরদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। এ ছাড়া বৈদেশিক সহায়তা, সামরিক ব্যয় এবং যুদ্ধসংক্রান্ত নীতির ওপর নজরদারিতেও ভূমিকা রাখবেন তিনি।

অভিশংসন বা ইমপিচমেন্টের বিচার: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কিংবা শীর্ষ ফেডারেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসনের অভিযোগ আনা হলে তার বিচার হয় সিনেটে। এ সময় সিনেট বিচারিক কক্ষ হিসেবে কাজ করে। বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিষয়ে রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে ভোট দিতে পারবেন আল-সাইয়েদ। তবে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করতে উপস্থিত সিনেটরদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন।

নতুন হলেও ভোটের মূল্য সমান

সিনেটে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং কমিটির নেতৃত্বে অগ্রাধিকার নির্ধারিত হয়। তবে আইন প্রণয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সব সিনেটরের ক্ষমতা সমান। অর্থাৎ দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা কোনো জ্যেষ্ঠ সিনেটরের ভোটের মূল্য যতটুকু, নতুন সদস্য হিসেবে আল-সাইয়েদের ভোটের মূল্যও ঠিক ততটুকু।

ফলে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিলের ভোটাভুটিতে তাঁর একটি ভোটও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দুই দলের মধ্যে ভোটের ব্যবধান কম থাকলে তাঁর অবস্থান জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, বিবিসি, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস।