মাধ্যমিক পর্যায়ের বিনামূল্যে বিতরণের সরকারি বই উদ্ধার করেছে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ। গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত পৌনে ৮টায় উপজেলার চণ্ডীপুর এলাকা থেকে চোরাই পথে মোমিনপুর ইউনিয়নের যশাই হাটে যাওয়ার সময় প্রায় ৪০০ কেজি চলতি বছরের বই জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান হলেন পার্বতীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। অপর দুই সদস্য হলেন উপজেলা একাডেমি সুপারভাইজার ও উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষা অফিসার। ঘটনার তদন্তে আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে ওই মাদ্রাসা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার।
আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় পার্বতীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মিরাজুল ইসলাম জানান, জব্দ তালিকায় নতুন ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের, পুরোনো বই ও পরীক্ষার খাতা রয়েছে। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আজ শনিবার রাত ৮টায় পার্বতীপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাকিল হোসেন বই উদ্ধার ও ভ্যানচালক আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার করা বইগুলো পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের ঘনেশ্যামপুর কুতুব মেমোরিয়াল দাখিল মাদ্রাসার। ওই মাদ্রাসার সরকারি বইগুলো শহরের পুরাতন বাজারে বিক্রি করতে না পেরে বসিরবানিয়া এলাকায় বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
ঘনেশ্যামপুর কুতুব মেমোরিয়াল দাখিল মাদ্রাসার সুপার জহুরুল হক দাবি করেন, বিক্রির আগে রেজুলেশন করা হয়েছে। গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) মাদ্রাসার পরীক্ষার খাতা ২০০ থেকে ২৫০ কেজি বিক্রি করা হয়েছে। এসব বিক্রির দায়িত্বে ছিলেন মাদ্রাসার অফিস সহায়ক কায়সার। তবে মাদ্রাসার কোনো বই বিক্রি হয়নি।
গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে পার্বতীপুর মডেল থানার ওসির দায়িত্বে থাকা সেকেন্ড অফিসার পিন্টু কুমার দাসের নেতৃত্বে পুলিশের উপপরিদর্শক শাকিল হোসেনসহ একদল পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বইয়ের চালানটি জব্দ করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বই বহনকারী ভ্যানচালক সাজেদুর রহমানকে (৩০) আটক করা হয়। আটক সাজেদুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের ঘনেশ্যামপুর গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে।
আজ শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজ দৈনিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইতিমধ্যে ওই মাদ্রাসা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিনামূল্যে বিতরণ করা পাঠ্যবই কোনো প্রতিষ্ঠান বিক্রি করতে পারে না। অতিরিক্ত বই থাকলে তা বিক্রির জন্য নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি কমিটি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই কমিটি এসব বই নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা করতে পারে।
পার্বতীপুর মডেল থানার ওসির দায়িত্বে থাকা সেকেন্ড অফিসার পিন্টু কুমার দাস বলেন, পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। জব্দ করা বইগুলো পরে পার্বতীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের হেফাজতে নেওয়া হয়।