মধ্যপাড়া খনিতে জিটিসির পাথর উত্তোলনে রেকর্ড

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২০ পিএম

দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরে অবস্থিত দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ উৎপাদনশীল মধ্যপাড়া পাথর খনিতে পাথর উত্তোলনে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। গত অক্টোবর মাসে দেড় লাখ মেট্রিক টনের বেশি পাথর উত্তোলন করেছে খনি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)। এর মধ্য দিয়ে আগের সব মাসিক উৎপাদনের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটি।

খনি সূত্র জানায়, মধ্যপাড়া পাথর খনির পরিচালনা, উৎপাদন ও উন্নয়নে জিটিসির সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় চুক্তির পর থেকেই পাথর উত্তোলনে ধারাবাহিকভাবে নতুন রেকর্ড হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত অক্টোবর মাসে ছুটির দিন বাদে এক লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি পাথর উত্তোলন করা হয়। এ সময় দৈনিক গড় উৎপাদন ছিল প্রায় ছয় হাজার মেট্রিক টন।

খনির উন্নয়ন ও উৎপাদন কার্যক্রমে জিটিসির বিদেশি খনি বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এবং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে উৎপাদনের নতুন রেকর্ড গড়ার ধারা অব্যাহত রেখেছে।

১৯৭৩-৭৪ সালে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি আবিষ্কৃত হয়। ১৯৯৪ সালের ২০ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পেট্রোবাংলার ভূগর্ভস্থ মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালের ২৫ মে খনি থেকে বাণিজ্যিকভাবে পাথর উত্তোলন শুরু হয়। শুরুতে দৈনিক মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করা হলেও বর্তমানে জিটিসির ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন হচ্ছে।

খনি সূত্র আরও জানায়, পাথর উত্তোলনে ধারাবাহিক রেকর্ডের ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে। বর্তমানে খনির বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন আকারের প্রায় ১৫ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন পাথর মজুদ রয়েছে।

খনির উন্নয়ন ও উৎপাদনের এ ধারা অব্যাহত রাখতে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা পেলে জিটিসির মাধ্যমে মধ্যপাড়া পাথর খনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মনে করছেন খনি শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এ বিষয়ে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী ডিএম জোবায়েদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমদানি করা পাথরের সঙ্গে সমন্বয় করে খনিতে উৎপাদিত পাথরের দাম কমানো হয়েছে। জিটিসির পাথর উৎপাদনে নতুন মাইলফলক সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে খনিতে পাথর বিক্রিও বেড়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত