খাতা চ্যালেঞ্জে আবেদন ফি থেকেই ১৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা

কারিগরি ত্রুটিতে আবেদনের সময় বাড়ল; আবেদন করেছেন ২ লাখ ৭৯ হাজার শিক্ষার্থী

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে অসন্তুষ্ট হয়ে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের (খাতা চ্যালেঞ্জ) আবেদন করেছেন ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থী। তাঁরা মোট ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। প্রতিটি উত্তরপত্রের জন্য ১৫০ টাকা করে ফি নির্ধারিত থাকায় এসব আবেদনের বিপরীতে ফি বাবদ জমা পড়ার কথা ১৫ কোটি ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার ৫৫০ টাকা।

এদিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে আবেদন করতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদনের সময় বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল ৮ নভেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কারিগরি (অনলাইন) ত্রুটির কারণে আজ বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদন কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়। ফলে অনেক পরীক্ষার্থী এ সময়ে আবেদন করতে পারেননি। শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আবেদনের শেষ সময় আজ রাত ১২টার পরিবর্তে আগামীকাল ৮ নভেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

প্রতি পত্রের জন্য পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ফি ১৫০ টাকা। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্য আবেদন করতে হয়। সে হিসাবে ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭টি পত্রের বিপরীতে মোট আবেদন ফি দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার ৫৫০ টাকা। তবে আবেদনের সময় বাড়ানোর ফলে এ সংখ্যা ও ফি আরও বাড়তে পারে।

এর আগে ২০২৫ সালে ১ লাখ ৯৩ হাজার ২৫৮ জন পরীক্ষার্থী মোট ৪ লাখ ২৮ হাজার ৪৫৮টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন। সে তুলনায় এবার আবেদনকারীর সংখ্যা এবং আবেদন করা উত্তরপত্রের সংখ্যা দুটোই বেড়েছে।

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশীয় পয়েন্ট।

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ফল বিশ্লেষণ করলে পরিস্থিতির আরও স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়। এসব বোর্ডে পাসের হার ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ। কৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৪১ হাজার ২৪৯ জন।

এর আগে ২০০৪ সালে ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৮৭ জন। অকৃতকার্য হয়েছিলেন ২ লাখ ৫২ হাজার ৬৯৪ জন। ওই বছর পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ।