হৃদয় পরিশুদ্ধ ও স্থির রাখার দোয়া

সুন্দর জীবন গঠনে হৃদয়ের পবিত্রতা গুরুত্বপূর্ণ। হৃদয় পরিশুদ্ধ থাকলে মানুষের চিন্তা, কথা ও কাজে সেটার প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে হিংসা, অহংকার, বিদ্বেষ ও লোকদেখানো মনোভাব হৃদয়কে কলুষিত করে। তাই একজন মুমিনের উচিত নিজের অন্তরকে পরিশুদ্ধ রাখার চেষ্টা করা এবং মহান আল্লাহর কাছে পবিত্র হৃদয়ের জন্য দোয়া করা। কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা রয়েছে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ সফল মানুষের পরিচয় তুলে ধরে বলেন, ‘সেদিন ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি কোনো উপকারে আসবে না। তবে যে সুস্থ হৃদয় নিয়ে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে, সে উপকৃত হবে।’ (সুরা শুআরা ৮৮-৮৯)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, আখেরাতে মুক্তির জন্য হৃদয়ের পবিত্রতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অন্তরকে হিংসা, অহংকার, বিদ্বেষ ও কপটতা থেকে মুক্ত রাখতে সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

হৃদয়কে পরিশুদ্ধ এবং দ্বীনের ওপর অটল রাখার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া করতেন। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রায়ই এই দোয়া পড়তেন, ‘ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুবি, সাব্বিত কালবি আলা দীনিক।’ অর্থাৎ হে অন্তরগুলোর পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখুন। (তিরমিজি ২১৪০)

এই দোয়ায় অন্তরের স্থিরতা ও দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার প্রার্থনা করা হয়েছে। মানুষের মন নানা কারণে পরিবর্তিত হতে পারে। দুনিয়ার মোহ, প্রবৃত্তির আকর্ষণ কিংবা শয়তানের প্ররোচনা তাকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। তাই আল্লাহর কাছে অন্তরকে সঠিক পথে অবিচল রাখার প্রার্থনা করা জরুরি।

হৃদয় পরিশুদ্ধ করার জন্য দোয়ার পাশাপাশি নিজের আচরণেও পরিবর্তন আনতে হবে। অন্যের প্রতি হিংসা না করা, ভুল হলে ক্ষমা চাওয়া, মানুষের অধিকার রক্ষা করা এবং নিজের দোষ সংশোধনের চেষ্টা করা জরুরি। কারও ভালো কিছু দেখে কষ্ট না পেয়ে তার জন্য কল্যাণ কামনা করা হৃদয়ের প্রশস্ততার পরিচয়।

আমরা আরেকটি দোয়া করতে পারি। তা হলো, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা কালবান সালিমা।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে একটি সুস্থ, নির্মল ও কলুষমুক্ত হৃদয় প্রার্থনা করছি। (সুনানে নাসায়ি ১৩০৭) এটি একটি দীর্ঘ দোয়ার অংশ।