কেয়ামতে ওজন করা হবে মানুষের আমল

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫৯ এএম

দুনিয়ার সব কাজের হিসাব একদিন মহান আল্লাহর কাছে দিতে হবে। সেদিন মানুষের আমল ওজন করা হবে এবং সেই ওজনের ভিত্তিতে তার পরিণতি নির্ধারিত হবে। দুনিয়ায় কোনো কাজ ছোট মনে হলেও মহান আল্লাহর কাছে সেটার গুরুত্ব অনেক বড় হতে পারে। তাই প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং নেক আমলের প্রতি যতœশীল হওয়া জরুরি।

কেয়ামতের দিন আমল ওজনের জন্য মিজান স্থাপন করা হবে। এটি হবে ন্যায়বিচারের মাপকাঠি। সেদিন কারও প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘কেয়ামতের দিন আমি ন্যায়বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করব। সুতরাং কারও প্রতি সামান্যতম জুলুম করা হবে না। কোনো কাজ যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয়, আমি তা উপস্থিত করব। হিসাব গ্রহণের জন্য আমিই যথেষ্ট।’ (সুরা আম্বিয়া ৪৭)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, মানুষের প্রতিটি কাজের হিসাব নেওয়া হবে। দুনিয়ায় কোনো ভালো কাজের স্বীকৃতি না মিললেও আল্লাহর কাছে তা পাওয়া যাবে। আবার মানুষের অগোচরে করা অন্যায়ও তার কাছে গোপন থাকবে না।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে আমল ওজনের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দুটি বাক্য দয়ালু আল্লাহর কাছে প্রিয়, জিহ্বায় হালকা, মিজানে ভারী। বাক্য দুটি হলো, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম।’ (সহিহ বুখারি ৬৪০৬)

হাদিসটি আমাদের শেখায়, আল্লাহর কাছে প্রিয় আমল করতে সব সময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। আন্তরিকতার সঙ্গে আল্লাহর জিকির করা, মানুষের উপকার করা এবং সদাচরণ করলে নেকির পাল্লা ভারী হয়।

একজন মানুষ নিয়মিত নামাজ পড়েন, মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায়দের সাহায্য করেন। অন্যদিকে আরেকজন প্রচুর সম্পদের মালিক হলেও মানুষের অধিকার নষ্ট করেন এবং অহংকার করেন। দুনিয়ার চোখে দ্বিতীয় ব্যক্তিকে বেশি সফল মনে হতে পারে। কিন্তু আখেরাতের বিচার হবে আল্লাহর নির্ধারিত মানদণ্ডে, যেখানে সম্পদের চেয়ে ইমান ও আমলের মূল্য গুরুত্বপূর্ণ।

নেক আমল করার পাশাপাশি অন্যের অধিকার রক্ষা করাও জরুরি। কারও প্রতি জুলুম করলে শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের ওপর নির্ভর করে নিশ্চিন্ত থাকা যায় না। তাই কেয়ামতের হিসাবের প্রস্তুতি হিসেবে তওবা করা, মানুষের পাওনা ফিরিয়ে দেওয়া, অন্যায় থেকে বেঁচে থাকা এবং নিয়মিত নেক আমল করা উচিত।

কেয়ামতের দিন আমলের ওজন কেমন হবে, তার পূর্ণ জ্ঞান মহান আল্লাহর কাছেই রয়েছে। আমাদের দায়িত্ব হলো তার সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা এবং প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে, এই বিশ্বাস নিয়ে জীবন পরিচালনা করা। মহান আল্লাহ আমাদের যথাযথভাবে আমল করার তওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : ধর্মীয় নিবন্ধকার

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত