সোরিয়াসিস রোগের আধুনিক চিকিৎসা

ডা. জাহেদ পারভেজ

সহকারী অধ্যাপক, ত্বক-চর্ম-যৌন ও হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিভাগ, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

প্রতি বছরের মতো এ বছরও ২৯ অক্টোবর পালিত হলো বিশ্ব সোরিয়াসিস দিবস। প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ত্বকের গন্ডি পেরিয়ে মানুষটিকে দেখুন। সোরিয়াসিস রোগটির সঙ্গে আমরা অনেকেই পরিচিত। কারণ এই রোগের প্রকোপ বাড়ছেই। সোরিয়াসিস কোনো সংক্রামক রোগ নয়। ত্বকের প্রদাহজনিত অন্যান্য চর্ম রোগের মতোই একটি। এটি শুধু চর্ম রোগ নয়, এটি অনেকটা মানসিক ও অন্যান্য শারীরিক রোগেরও কারণ। অতিরিক্ত শারীরিক জটিলতা রোগীকে হতাশায় ফেলে।

কেন ও কীভাবে সোরিয়াসিস হয়

যেকোনো বয়সের নারী ও পুরুষ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। ৩০ বছর বয়সের পরে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। কেন এ রোগ হয়, তার সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে বংশগত কারণেও এ রোগ হয়। মানুষের ত্বকের কোষ প্রতিনিয়ত মারা যায় এবং নতুন করে তৈরি হয়। সোরিয়াসিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই মারা যাওয়া কোষের সংখ্যা ও বিস্তারের মাত্রা অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। ত্বকের সবচেয়ে গভীর স্তর থেকে মৃত কেরাটিনোসাইটস কোষ ওপরের স্তরে আসতে লাগে ২৮ দিন। সোরিয়াসিসের ক্ষেত্রে সময় নেয় পাঁচ থেকে সাত দিন।গবেষণায় এসেছে, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকজনিত সংক্রমণ, মুখগহ্বরে সংক্রমণ, ত্বকে আঘাত বা আবহাওয়ার কারণে সোরিয়াসিস হতে পারে। ধূমপান, মদ্যপান, উচ্চ রক্তচাপের বিশেষ ওষুধ সেবন, ম্যালেরিয়ার ওষুধ সেবন এবং স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ নেওয়ার কারণেও সোরিয়াসিস হতে পারে।

লক্ষণ

সোরিয়াসিস রোগে ত্বক পুরু হয়ে লালচে দাগ পড়ে। ত্বক চুলকাতে পারে, ব্যথাও হতে পারে। আক্রান্ত স্থান রুপালি-সাদা আঁশ দ্বারা আবৃত থাকে এবং লালচে বর্ণের ক্ষত দেখা যায়। কনুই, হাঁটু, মাথা, হাত এবং পায়ের নখে এটা হয়। মাথার ত্বক, আক্রান্ত হাত এবং পায়ের নখের রঙ নষ্ট হয়ে গর্ত হয়ে যায়। যেসব রোগী বহু বছর ধরে এই রোগে আক্রান্ত, তাদের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর এই রোগের প্রভাব পড়ে। এ থেকে যকৃতের রোগ, আর্থ্রাইটিস, হৃদ্রোগ ও রক্তে কোলেস্টেরলের ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়।

প্রতিকার

শরীরের অল্প অংশ আক্রান্ত হলে ক্রিম, পেট্রোলিয়াম জেলি, লোশন ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়। এতে শুষ্ক ত্বক আর্দ্র থাকে। বেশি জটিলতা দেখা দিলে ওষুধ খেতে হবে। আলট্রাভায়োলেট ও বায়োলজিক্যাল থেরাপি নিতে হবে। এ রোগে আক্রান্ত হলে সরাসরি রোদে বেশিক্ষণ থাকা উচিত নয়। শুরুতে নিয়ন্ত্রণ না করলে বয়স বাড়লে রোগের জটিলতাও বেড়ে যায়। দেরি না করে ত্বকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।