‘হামজা-ফারহান এলে আত্মবিশ্বাস বাড়বে’

আট বছর পর ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। তাই ২৩ বছরের খরা কাটিয়ে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। ভুটানের বিপক্ষে এক গোলের জয় দিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণের পথে হাঁটতে শুরু করেছেন স্বাগতিকরা। এখন দলের শক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ দুই ফুটবলার হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলী ওয়াহিদের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো দল। সোমবার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে এই দুই প্রবাসী ফুটবলারের। তারা যোগ দিলে দলের আত্মবিশ্বাস ও মনোবল আরও বাড়বে বলে মনে করছেন জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিন।

গতকাল বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় অনুশীলনের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন মোরসালিন। সেখানে হামজা ও ফারহানের আগমনে দলের আত্মবিশ্বাস ও গতি বাড়বে বলে জানান তিনি। মোরসালিন বলেন, ‘হামজা ভাই ও ফারহান আসবে বলে আমরা খুবই আশাবাদী। আশা করছি, তাদের আসার পর দলের যে স্পিরিট ও আত্মবিশ্বাস রয়েছে, তা আরও বাড়বে।’ দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবুও জানিয়েছেন, আগামীকাল সোমবার ঢাকায় পৌঁছাবেন হামজা ও ফারহান। ফিফা উইন্ডো ও অন্যান্য কারণে এখনো দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি তারা। ঢাকায় পৌঁছানোর দিনই অনুশীলনে যোগ দেবেন বলে আশা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পেলেও একাদশ সাজাতে হিমশিম খাচ্ছেন কোচ টমাস ডুলি। আছে ইনজুরির থাবাও। দলের সবচেয়ে বড় তারকা হামজা চৌধুরীকে মাঠে মিস করছে বাংলাদেশ। যদিও এবারের সাফে ঘরের মাঠে শিরোপা জয়ের লক্ষ্য বাংলাদেশের। তবে প্রথম ম্যাচে জয়ের ব্যবধান ছোট হলেও সেটি নিয়ে কোনো হতাশা নেই মোরসালিনের। বরং তার মতে, বড় ব্যবধানে জয় পেলে খেলোয়াড়দের মধ্যে কখনো কখনো আত্মতুষ্টি চলে আসতে পারে। মোরসালিন বলেন, ‘অনেক সময় বেশি গোল করলে শরীর রিল্যাক্স হয়ে যায়। আমার মনে হয়, ওই দিক থেকে ভালো হয়েছে। আমরা এখনো ক্ষুধার্ত। পরের ম্যাচে ভালো করার তাড়না সবার মধ্যে আছে।’ প্রথম ম্যাচে মাঠে নামা হয়নি মোরসালিনের। অসুস্থতার কারণে ছিলেন না ২৩ সদস্যের স্কোয়াডেও। তবে এখন পুরোপুরি সুস্থ এবং খেলার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। মোরসালিন বলেন, ‘আমার ইনজুরি ছিল না, একটু জ্বর হয়েছিল। চার-পাঁচ দিন আগেই সুস্থ হয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, এখন শতভাগ ফিট। সুযোগ পেলে ভালো করার আশা করছি।’ সোমবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষকে সমীহ করলেও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মোরসালিন। তার মতে, শ্রীলঙ্কা ভালো দল হলেও নিজেদের সামর্থ্যরে ওপর বিশ্বাস রয়েছে বাংলাদেশের।

এদিকে গত ম্যাচে সেরা একাদশে থাকলেও ওয়ার্মআপের সময় হঠাৎ ইনজুরিতে পড়ে মাঠের বাইরে চলে যান অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। তবে ইনজুরিতে পড়া এই ফুটবলার বর্তমানে বিদেশি ফিটনেস ট্রেনারের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তার বর্তমান অবস্থা নিয়ে ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিদেশি ফিটনেস ট্রেনারের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তপু বর্মণ ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। সোমবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে কোচ যদি প্রয়োজন মনে করেন, তবে তাকে খেলাতে পারেন।’ সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কা ম্যাচের আগে হামজা-ফারহানের যোগদান এবং মোরসালিনের ফিটনেস ফিরে পাওয়া বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক খবর। ঘরের মাঠে শিরোপার স্বপ্ন পূরণে দলীয় শক্তি ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখাই এখন বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য।