হৃদয়ের কীর্তিতে এগিয়ে বাংলাদেশ

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৩ এএম

সিলেট টেস্টে তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে ভর করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এক প্রান্তে যখন নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে দিশেহারা স্বাগতিকরা, তখন অন্য প্রান্তে অবিচল থেকে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকেই ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেন এই তরুণ ব্যাটসম্যান। তার অবিশ্বাস্য ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংসে ব্যক্তিগত রেকর্ডের খাতা সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের দখলে নিয়েছে বাংলাদেশ দল। ক্যারিবীয়দের প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রানে অলআউট করার পর নিজেরা ৩৮৬ রান তুলে ৩০ রানের লিড নিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৭ রান করেছে সফরকারীরা। ২৩ রানে এগিয়ে থেকে আজ চতুর্থ দিনে মাঠে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

প্রথম ইনিংসে একসময় বাংলাদেশের অবস্থান বেশ নাজুক ছিল। আগের দিনের ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করা দলটি সকালের সেশনেই হারায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি উইকেট। মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ৭৩ রানের জুটি গড়ে হৃদয় দলকে এগিয়ে নেন। কিন্তু মুশফিকের বিদায়ের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের বিদায়ে ১৮৪ রানেই ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ দল। চোটের কারণে সাদমান ইসলামও ব্যাট করতে না পারায় স্বীকৃত আর কোনো ব্যাটসম্যান অবশিষ্ট ছিল না।

এমন পরিস্থিতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে বড় লিড নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু শেষ দিকের ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে নিয়ে হৃদয় যেভাবে ইনিংস গড়েন, তাতে ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। তাইজুল ইসলামের সঙ্গে অষ্টম উইকেটে ১১৭ এবং তাসকিন আহমেদের সঙ্গে নবম উইকেটে ৮৫ রানের জুটি গড়ে দলকে শুধু বিপদমুক্তই করেননি, প্রথম ইনিংসে দলকে এগিয়েও নেন তিনি। তাইজুল ২২ ও তাসকিন ১২ রান করে অবদান রাখেন। অন্যদিকে হৃদয় পরিস্থিতি বুঝে কখন আক্রমণ করতে হবে আর কখন উইকেট ধরে রাখতে হবে, সেই হিসাবে এগুতে থাকেন। শেষ ২ উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের সংগ্রহে যোগ হয় ২০২ রান।

হৃদয়ের এই ইনিংসের সুবাদে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা অনেকটাই আড়ালে চলে গেলেও দলীয় সাফল্যের জন্য বোলারদের দায়িত্ব এখন বেড়েছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিনারদের কাছ থেকে ভালো পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের স্পিনাররা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বোলিং করতে পারেননি বলে মনে করেন তিনি। চতুর্থ দিনে তাদের কাছ থেকেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার আশা তার। এ নিয়ে সিমন্স বলেন, ‘আমার ধারণা, স্পিনাররা আরও ভালো বোলিং করতে পারে। ঢাকা ও এখানে প্রথম ইনিংসে তারা নিজেদের প্রকৃত সামর্থ্য দেখাতে পারেনি। আশা করি, আগামীকাল (আজ) তারা নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দেবে। সর্বশেষবার আমরা এখানে খেলতে এসে শেষ দিনে এই দুই স্পিনারই পাকিস্তানকে অলআউট করেছিল। তাই আশা করছি, দ্বিতীয় ইনিংসে আমাদের তিন স্পিনারের প্রকৃত সামর্থ্য ও দক্ষতা দেখা যাবে।’

জয়ের জন্য দ্বিতীয় ইনিংসে প্রতিপক্ষকে কত রানে আটকাতে চান, এমন প্রশ্নে কৌশলে পথে হাঁটেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ। উত্তরে বলেন, ‘কত রান স্বস্তিদায়ক হবে, তা বলা কঠিন। গত বছর আমরা পাকিস্তানকে প্রায় ৫০০ রানের লক্ষ্য দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা প্রায় ৪০০ রান করে ফেলেছিল। এখানকার উইকেট এখনো ভালো, সাধারণত ভালোই থাকে। তাই আগামীকাল (আজ) তারা কত রান করতে পারে, সেটি আগে দেখতে হবে। এরপর আমরা বুঝতে পারব, তাদের কত রানে আটকে রেখে কী ধরনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা সম্ভব।’

সিলেটের উইকেটের বর্তমান আচরণ বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় সংগ্রহের আগেই আটকে দেওয়া। উইকেটে এখনো ব্যাটারদের জন্য রান করার সুযোগ রয়েছে। গতকালের হতাশা ভুলে আজ ঘুরে দাঁড়াতে চায় সফরকারীরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই আমরা হতাশ। একটা সময় ম্যাচে আমরাই এগিয়ে ছিলাম, সবকিছু আমাদের পরিকল্পনামতো চলছিল। কিন্তু হৃদয় দারুণ ব্যাটিং করেছে। এখন পেছনে ফিরে তাকালে আমাদের ভাবতে হবে, কোথায় কোথায় আরও ভালো করতে পারতাম। তবে দল হিসেবে আমাদের মনোবল ধরে রাখতে হবে। কারণ এখনো আমাদের অনেক কাজ বাকি। আগামীকাল (আজ) ভালো ব্যাটিং করতে হবে।’

তৃতীয় দিনের শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্র্যান্ডন কিং ও জশুয়া ডা সিলভা আজ চতুর্থ দিন শুরু করেবেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত