সাফারি পার্কে দুই নীলগাই পরিবারে চার শাবক

পার্কের কোর সাফারির ভেতর দিয়ে পশ্চিম দিকের প্রথম গেট পরেই আফ্রিকান সাফারি। সে গেট ধরে নিরাপদ গাড়িতে চড়ে পার্কের প্রধান আকষর্ণগুলো দেখতে পার্কে আসা দর্শনার্থীরা অপেক্ষা করেন। লাইনে দাঁড়িয়ে বাসে চড়ে ঘুরেন আফ্রিকান সাফারির দিগি¦দিক। আফ্রিকান সাফারিতে প্রবেশ করতেই ডোরাকাটা একঝাঁক জেব্রার লম্ফঝম্প পর্যটকদের হকচকিয়ে দেয়। সবার মাঝে হইচই শুরু হয়ে যায়। শিশুরা আনন্দে চিল্লাচিল্লি শুরু করে। এর পর নানা জাতের বিদেশি প্রাণীর পাল সামনে ঘুরে বেড়াতে দেখা মেলে।

তবে এবার আগত দর্শনার্থীদের মাঝে ছিল আলাদা হইচই, ভিন্ন আনন্দ। এবারই পার্কের হরিণ সাফারিতে একসঙ্গে নীলগাইয়ের চার শাবক চোখে পড়ল সবার। এটা বিরল দৃশ্য। এ দৃশ্য চোখে পড়ে গাজীপুরের শ্রীপুরে সাফারি পার্কের হরিণ বেষ্টনীর ভেতরে খাবার দেওয়ার স্থানে।

পার্ক কর্তৃপক্ষের ধারণা দুই সপ্তাহ আগে চারটি শাবকের জন্ম হয়েছে। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বনের ভেতরে লুকিয়ে থাকে মা-বাবারা। পরে একটু চনমনে হলে জনসম্মুখে মা-বাবা শাবকগুলোকে নিয়ে আসতে শুরু করে। পার্কে একসঙ্গে চারটি নীলগাই শাবকের এবারই প্রথম জন্ম। তবে এর আগে যমজ শাবকের জন্ম হয়েছিল। এ দেশে এক সময় রাষ্ট্রীয়ভাবে  বিলুপ্ত ঘোষণা করা প্রাণী নীলগাই। এখন সাফারি পার্কে আবারও ফিরে এলো নীলগাই। কয়েক দফায় বেশ কিছু বাচ্চার জন্ম হয় এ পার্কে। সম্প্রতি জন্ম নেওয়া ফুটফুটে চারটি শাবক বেশ সুস্থ-সবল রয়েছে। শাবক চারটি মায়েদের সঙ্গে খুনসুটি করে সময় পার করছে। চার শাবকের জন্য পার্ক কর্তৃপক্ষ বাড়তি পরিচর্যা দিচ্ছে। পার্কের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক মো. রাজু আহমেদ বলেন, পার্কের কোর সাফারির হরিণ সাফারিতে শাবকদের মায়ের সঙ্গে দেখা যায়। জন্ম বেশ কিছুদিন আগে হলেও সপ্তাহ দুই হলো আমাদের সামনে আসছে। চোখে পড়ছে শাবকসহ দুটি পরিবার। শাবকের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে বিষয়টি গণমাধ্যমে জানানো হয়নি। শাবক চারটি সুস্থ রয়েছে। নিয়মিত মায়ের দুধ পান করছে। খুনসুটি করে অনন্য প্রাণীর সঙ্গে ঘোরাঘুরি করছে বনের এপার-ওপারজুড়ে। দর্শনার্থীরাও বেশ উৎফুল্ল নতুন অতিথি শাবকগুলো দেখে।

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও (সহকারী বনসংরক্ষক) মো. তারেক রহমান বলেন, আমাদের কর্মীরা প্রখমে চারটি শাবক দেখে। গর্ভবতী মা দুটিকে নজরদারিতে রাখা ছিল। বাচ্চা প্রসবের কিছুদিন আগেই গভীর বনে চলে যায় মা নীলগাই। পরে বাচ্চা জন্মের দুই সপ্তাহ পর সামনে আসে শাবক নিয়ে। মা নীলগাই বাচ্চাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এমনটি করে। আড়ালে থাকে। একসঙ্গে চারটি শাবকের জন্ম। এটি আমাদের জন্য দারুণ খবর। তিনি আরও জানান, চারটি শাবকের লিঙ্গ নির্ণয় হয়নি। সদ্য জন্ম নেওয়া চারটি শাবকসহ পার্কে নীলগাইয়ের সংখ্যা ১৩টি। আশা করি আরও বাচ্চা পাব এ মৌসুমে।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী বলেন পার্কে চারটি নীলগাই শাবকের জন্ম হয়েছে। শাবকগুলোর জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে সবসময় তদারকি করতে পার্ক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এটা দারুণ সুখবর পার্কের জন্য। আমরা আরও বেশি যতœশীল হব শাবগুলো ঘিরে। এ মৌসুমে পার্কে ভিন্ন আনন্দ পাবেন পর্যটকরা।