জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতঘর ভাঙচুরের শিকার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের একটি পরিবার। এ ঘটনার পর বিগত পাঁচ দিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে ওই পরিবারের সদস্যরা। ঘরের বিভিন্ন অংশ ভাঙা, নষ্ট হয়েছে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাপনেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের।
সীতাকুণ্ডের পৌরসভার নুনাছড়া এলাকার চৌকিদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। গত ৩ নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে বসতঘর ভাঙচুর ও হামলার এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন খোরশিদা আক্তার নামে এক নারী। এ ঘটনায় রেজাউল করিম মানিক, নুর করিম ও সুজনসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
খোরশিদা আক্তারের অভিযোগ, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন। তাদের পৈতৃক ভিটাবাড়ির জমি নিয়ে প্রতিবেশী রেজাউল করিম মানিকদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও সমাধান হয়নি। এ নিয়ে তার ভাই মো. ইউসুফ দুই থেকে তিন মাস আগে আদালতে মামলা করেছেন, যা বর্তমানে চলমান।
লিখিত অভিযোগে খোরশিদা উল্লেখ করেন, গত ৩ নভেম্বর সকালে পরিবারের সদস্যরা পুরোনো বসতঘর ভেঙে নতুন করে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা ১৫ থেকে ২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয় এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় তার মা হাসিনা আক্তার ও ভাবি রুনা আক্তার আহত হন। পরে তাদের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
খোরশিদার দাবি, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশ প্রথমে ভাঙচুরে জড়িত কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে গেলেও কিছুদূর যাওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তারা আবার ফিরে এসে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাদের দুটি গরু নিয়ে গেছে, যার আনুমানিক মূল্য দেড় লাখ টাকা। ঘরের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ও দুটি স্মার্টফোন ভাঙচুর করা হয়েছে। তার ও ভাবির জমানো ৭০ হাজার টাকাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া তাকে ও তার ভাবিকে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার পর থেকে তাদের বাড়িতে থাকতে না দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি তার।
খুরশিদার ভাই ইউসুফ বলেন, এটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। রেজাউল করিম পোড়া সনের একটি জাল দলিল বানিয়ে কয়েক বছর আগে জায়গাটি জবরদখল করে নেয়। এক পর্যায়ে সে মামলা মোকদ্দমা না করে দশ লাখ টাকা নিয়ে জায়গাটি আমাদেরকে দিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করে। সেই মোতাবেক আমরা অনেক কষ্ট করে টাকা জোগাড় করি। পরে তিনি জায়গা দিতে অস্বীকার করেন।"
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত রেজাউল করিম মানিক বলেন, ‘জায়গাটি আমি দীর্ঘদিন আগে কিনেছি। চারপাশে বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে ভোগদখলে থাকা অবস্থায় কয়েক দিন আগে হঠাৎ করে তাঁরা সেখানে একটি ঘর তুলে ফেলেন।" ঘর ভাঙচুরের বিষয় স্বীকার করে নিয়ে তিনি বলেন, সেখানে যা করা হয়েছে, তা আমাদের এক শুভাকাঙ্ক্ষীর পরামর্শ অনুযায়ী করা হয়েছে।’
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙচুরের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে দুই পক্ষকে বিচ্ছিন্ন করে দুই দিকে পাঠিয়ে দেয়। উভয় পক্ষকে জমির মালিকানা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য বলা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।’