গাজীপুরে আবারও শ্রমিক বিক্ষোভ, ৭ কারখানায় ছুটি

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী ও জরুন এলাকায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আবারও শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার দুপুরের খাবারের বিরতির পর কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। এ সময় আশপাশের অন্তত আটটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। ছুটি ঘোষণা করা কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে মন্ডল গ্রুপের মুনটেক্স ফেব্রিকস লিমিটেড, কাইজার নিটওয়্যার, তাসনিয়া ফেব্রিকস, মাল্টিফ্যাবস লিমিটেড ও ইসলাম নিটওয়্যার লিমিটেড।

শিল্প পুলিশ ও কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানার নয়াপাড়া এলাকায় মন্ডল গ্রুপের মুনটেক্স ফেব্রিকস লিমিটেডের শ্রমিকেরা রোববার সকালে কাজে যোগ দেন। দুপুরে খাবারের বিরতিতে কারখানা থেকে বের হওয়ার পর তাঁরা আর কাজে ফেরেননি। পরে তাঁরা মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় বিভিন্ন স্লোগান দেন তাঁরা।

একপর্যায়ে ওই কারখানার শ্রমিকেরা আশপাশের কারখানার শ্রমিকদেরও তাদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় বিক্ষোভ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কাইজার নিটওয়্যার, তাসনিয়া ফেব্রিকস, মাল্টিফ্যাবস লিমিটেড ও ইসলাম নিটওয়্যার লিমিটেডসহ আশপাশের অন্তত আটটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

পরে শ্রমিকেরা ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শিল্প পুলিশ, থানা-পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা। তাঁরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে কাজে যোগ দেওয়া অথবা বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তবে শ্রমিকেরা তাঁদের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোনাবাড়ী, জরুন ও কাশিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, রোববার সকাল থেকে  স্বাভাবিক ভাবেই চলছিল গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের কার্যক্রম। দুপুরের পর মন্ডল গ্রুপের বেশ কয়েকজন শ্রমিক জরুন মোড় আসছিল। এসময় ৬ থেকে ৭টি কারখানায় ঢিল ছুঁড়ে। পরে পুলিশ ও বিজিবি তাদের লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে সরিয়ে দেয়। এসময় ৭টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে গাজীপুরে ৭টি কারখানা ছাড়া বাকীসব কারখানায় উৎপাদন চলছে।