অসম্ভব বুদ্ধিমান প্রাণী ডলফিন

ডলফিনদের তীক্ষè শ্রবণশক্তি। কোনো প্রাণীর শোনার ক্ষমতা নির্ভর করে, তার কান কত রেঞ্জের শব্দ তরঙ্গ গ্রহণ এবং প্রসেস করতে পারে। মানুষ মোটামুটি ২০ কিলোহার্টজ কম্পাঙ্ক বিশিষ্ট শব্দ তরঙ্গ শুনতে পারে। কিন্তু ডলফিন ১৬০ কিলোহার্টজ কম্পাঙ্ক পর্যন্ত শব্দ তরঙ্গ শুনতে পায়। এরা পানি থেকে লাফিয়ে উঠে এক ধরনের নাচ দেখায়। যেটি তাদের সহজাত আচরণ। এর পেছনে বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে। পানিতে থাকার কারণে ডলফিনের চামড়ায় বিভিন্ন ধরনের পরজীবী আটকে যায়। পানি থেকে উঁচুতে লাফিয়ে আবার যখন পাশ ফিরে পানিতে আছড়ে পড়ে, তখন পানির ধাক্কায় পরজীবীগুলো শরীর থেকে খসে পড়ে। মাছ শিকার করার সময় ডলফিনরা নাচ বা লাফালাফি করে। এতে পানির নিচে থাকা মাছের ঝাঁক আতঙ্কিত হয়ে দিগি¦দিক ছুটে, যা ডলফিনদের জন্য শিকার করা সহজ হয়। এরা খুব বুদ্ধিমান ও কৌতুকপ্রিয় প্রাণী। কখনো তাদের কণ্ঠস্বর শুনলে মনে হয়, ডলফিনরা নিজেদের মধ্যে রসালাপে ব্যস্ত। বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, ডলফিন কথা বলে এবং তাদের কথা কয়েক বছরের মধ্যে ডিকোড করা সম্ভব হবে। এদের প্রধান খাদ্য হলো ছোট মাছ ও স্কুইড। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, ডলফিনের মাংসের মিথাইলমার্কারি খুব বিষাক্ত। এটি গর্ভবতী মার শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে ক্ষতি করতে পারে।  দীর্ঘমেয়াদি হলে, হতে পারে প্রাণঘাতী। যে কারণে ডলফিনের মাংস এড়িয়ে চলা নিরাপদ। যদিও জাপান ও  পেরুতে ডলফিনের মাংস খাওয়া হচ্ছে। প্রজাতিভেদে এরা ২০-৪০ বছর বাঁচে।