আল্লাহর স্মরণে অন্তর প্রশান্ত হয়। কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মুমিন আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেন। কোরআনের প্রতিটি আয়াতেই রয়েছে হেদায়েত ও কল্যাণের বার্তা। বিশেষ কিছু আয়াত তেলাওয়াতের ফজিলতও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তেমনই একটি আমল হলো সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত তেলাওয়াত করা। হাদিসের একটি বর্ণনায় এ আমলের মাধ্যমে সত্তর হাজার ফেরেশতার দোয়া লাভের সুসংবাদ রয়েছে।
মাকিল ইবনে ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সকালে তিনবার আউযুবিল্লাহিস সামীইল আলীমি মিনাশ শাইতানির রাজিম (আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি) বলবে, এরপর সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত তেলাওয়াত করবে, আল্লাহ তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা নিযুক্ত করবেন। তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করতে থাকবেন। ওই দিন সে মারা গেলে শহীদের মর্যাদা লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এ আমল করবে, তার জন্যও একই ফজিলত রয়েছে।’ (সুনানে তিরমিজি)
সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াতে মহান আল্লাহর পরিচয়, একত্ববাদ, অসীম ক্ষমতা ও মহত্ত্বের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এসব আয়াতে আল্লাহর সুন্দর নাম ও গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে। তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্য সবকিছুর জ্ঞানী, পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু। তিনিই সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। তার কোনো শরিক নেই। আসমান ও জমিনের সবকিছু তার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। তাই আয়াতগুলো তেলাওয়াতের পাশাপাশি এর অর্থ অনুধাবন করা এবং আল্লাহর গুণাবলি ও মহত্ত্ব নিয়ে চিন্তা করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ইমাম তিরমিজি (রহ.) উল্লিখিত হাদিসের সনদকে ‘গরিব’ বলেছেন। শায়খ আলবানিও একে দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে কোরআনের আয়াত হিসেবে সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত তেলাওয়াত করা নিঃসন্দেহে অনেক সওয়াবের কাজ।