ইরানের স্থলপথ অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ‘টাস্কফোর্স’

ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সমুদ্রপথে অবরোধের পাশাপাশি এবার স্থলসীমান্ত ও কাসপিয়ান সাগর দিয়ে অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম এবং নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত পণ্য সরবরাহ বন্ধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা সেন্টকম গত শনিবার জানিয়েছে, উন্নত অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ইরানের স্থলপথের ব্যবহার ঠেকাতে এ বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে বলে জানান সংস্থাটির প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার।

টাস্কফোর্সটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘আয়রন গেট’। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার টাম্পায় এর কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রায় ২০ জন বেসামরিক ও সামরিক সদস্য নিয়ে গঠিত দলটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। ইরানের স্থল সীমান্ত ও কাসপিয়ান সাগর দিয়ে উন্নত অস্ত্র, দ্বৈত ব্যবহারের প্রযুক্তি, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত সরঞ্জাম এবং অবৈধ আয়ের উৎসের চলাচল বন্ধ করাই এর লক্ষ্য বলে জানিয়েছে সেন্টকম। পশ্চিম এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপ-সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল মুলরয় আলজাজিরাকে বলেন, টাস্কফোর্সটির মূল কাজ হবে অস্ত্রের চালান কোথা থেকে আসছে, কোন পথে সেগুলো পরিবাহিত হচ্ছে এবং কীভাবে ওই সরবরাহ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা যায়, তা শনাক্ত করা। পাশাপাশি ইরানের জ্বালানি পরিবহনের পথও খতিয়ে দেখবে তারা। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ানোর নির্দেশ দেন, তাহলে এসব নির্দিষ্ট সরবরাহ পথ ও অবকাঠামোই সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। একই সময়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এদিকে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় গত শনিবার সন্ধ্যায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপেও শোনা যায় বিস্ফোরণের শব্দ। একই দিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌঅবরোধ ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে সেটি অচল করে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মাইন বিস্ফোরণের পর হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে গেছে। গতকাল রবিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এ তথ্য জানিয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘নিয়ম লঙ্ঘনকারী দুটি তেলবাহী ট্যাংকারÑএকটি হরমুজ প্রণালির পূর্ব অংশে এবং অন্যটি প্রণালির ভেতরেÑঅননুমোদিত রুট দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করার সময় নৌ-মাইনের আঘাতে আগুন ধরে যায়।’