সাজেকের দুর্গম পাড়ায় সন্তান প্রসবের সময় মায়ের মৃত্যু

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম জৌপুই পাড়ায় সন্তান প্রসবের সময় ওয়ারেন্টি ত্রিপুরা নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার দুপুরে বাড়িতে সন্তান প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলেন, চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় বাড়িতেই প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জৌপুই পাড়াটি সাজেকের অত্যন্ত দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। এদিকে চতুর্থ দফায় চলছে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি। অবরোধের কারণে সড়কে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের চলাচল।

জানা গেছে, দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাকেন্দ্র, প্রশিক্ষিত ধাত্রী ও জরুরি রোগী পরিবহনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় পুরো পাড়ায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পাহাড়ি জনপদ।

ননেল ত্রিপুরা নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, জৌপুই পাড়া দেশের শেষ সীমান্তবর্তী দুর্গম গ্রামগুলোর একটি। ওই গ্রাম থেকে সাজেকে আসার একমাত্র মাধ্যম পায়ে হাঁটা। পাহাড়ি দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে সাজেকে পৌঁছাতেই প্রায় ৩০ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগে। ফলে কোনো ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হলে কিংবা গর্ভবতী নারীর প্রসবকালের জটিলতা দেখা দিলে হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর দুর্গম এই পাড়াগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছায়নি। অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের প্রসবকালের জটিলতায় একমাত্র ভরসা এখনো গ্রাম্য অভিজ্ঞতা। ফলে প্রায়ই এমন মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

এ বিষয়ে সাজেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা জানান, দুর্গম এলাকায় একটি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন ও জরুরি পরিবহনের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি। তা না হলে এ ধরনের মৃত্যু ঠেকানো যাবে না।

সাজেকে ফের গোলাগুলি : এদিকে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসীত) ও জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রবিবার দুপুরে সাজেকের মাচালং ডিপোপাড়ায় দুই পক্ষের গোলাগুলি ঘটে। তবে এতে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, গোলাগুলির খবর পেয়েছি। তবে দুর্গম এলাকা হওয়ায় হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।