বিজিবির হস্তক্ষেপে ফেনীর পরশুরাম সীমান্তের কহুয়া নদীর ভারতীয় অংশে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে সিমেন্ট ও কংক্রিটের তৈরি ব্লক বসানোর কাজ স্থগিত করেছে ভারত। এদিকে বাংলাদেশ অংশে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারকাজ এখনো অসম্পূর্ণ থাকায় নদীভাঙন ও বন্যার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। স্থানীয়রা বলছেন, বাংলাদেশের বাঁধ টেকসই করা না হলে উত্তর কোলাপাড়া, দক্ষিণ কোলাপাড়া, বাসপদুয়া ও পরশুরাম বাজারসহ বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার ঝুঁকিতে পড়বে। গতকাল রবিবার বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসিবুল ইসলাম জানান, ব্লক স্থাপনের কাজ শুরুর আগে বিষয়টি বিজিবিকে অবহিত করার কথা ছিল ভারতের। পরে জানার পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
এদিকে গতকাল কহুয়া নদীর ভারতীয় অংশে সিসি ব্লক স্থাপনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভাঙন আতঙ্কের খবর শুনে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এ প্রসঙ্গে পাউবো ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ভারতীয় অংশে বাঁধে ব্লক স্থাপন করা হলে বাংলাদেশের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে বিজিবি অধিনায়কের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ২১৬৩ নম্বর পিলারের উভয় পাশে কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভারতের বিলোনিয়া সংলগ্ন আমজাদনগরে ২ দশমিক ৩ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশের পরশুরাম বাজারসংলগ্ন উত্তর কোলাপাড়ায় ২৫০ মিটার বেড়িবাঁধ সংস্কারে উভয়পক্ষ সম্মত হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক উত্তর কোলাপাড়া মাজারবাড়ি কবরস্থানসংলগ্ন কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের ২৫০ মিটার নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, এর বাইরে আরও প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ সংস্কার বাকি রয়েছে।