রাষ্ট্র যখন আছে তখন রাজনীতি থাকবেই এবং আছেও। অবৈধ পথে যারা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে ফেলেন তারা প্রথমেই যা বলেন তা হলো তাদের কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ নেই এবং তারা অতিদ্রুত নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে অব্যাহতি নেবেন। কিন্তু অবৈধ পন্থায় রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার কাজটা তো নির্জলাভাবেই রাজনৈতিক এবং একেবারে প্রথম দিন থেকেই তারা নতুন রাজনীতি শুরু করেন; দল গড়েন, তাদের পক্ষে কাজ করতে প্রস্তুত এমন লোক খোঁজেন, তাদের উপদেষ্টা বানান, লোক-দেখানো সংস্কারের নামে সাধারণ মানুষের কষ্ট বৃদ্ধি করেন এবং সাজানো নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নিজেদের নির্বাচিত বলে ঘোষণা করে দেন। সাধারণ মানুষও বিলক্ষণ রাজনীতি বোঝে, রাজনীতিকে তারা বলে পলিটিকস্। ওই পলিটিকস্ কথাটা সব কিছু পরিষ্কার করে দেয়। বোঝা যায় যে পলিটিকস্ সবখানেই আছে। রয়েছে এমনকি পরিবারের ভেতরেও, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ক্ষেত্রেও। এই সব ছোট ছোট পলিটিকস্ রাষ্ট্রে যে পলিটিকস্ চলছে তার মূল্যবোধ দ্বারাই পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় পলিটিকসের মূল্যবোধটা কী? স্পষ্টতই সেটা হলো নিজের দিকে সবকিছু টেনে নেওয়া, নিজের আখের নিজের হাতেই গুছিয়ে নেওয়া।
এই ধরনের রাজনীতি দিয়ে দেশের কি কোনো উপকার হবে? এর জবাব ওই প্রশ্নটির ভেতরেই রয়ে গেছে। এই রাজনীতির দ্বারা দেশের কোনো উপকার হয়নি, হবেও না। বরঞ্চ দুর্দশা বাড়বে, যেমনটা বাড়ছে। এই রাজনীতি পুরনো ও পরিচিত। রাষ্ট্র বদলেছে, রাজনীতি বদলায়নি। যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় যাতায়াত করে তারা নিজেদের স্বার্থ দেখে, দেশের স্বার্থ দেখে না। দেশের সম্পদ যেটুকু আছে সেটা তারা অতিদ্রুত নিজেদের করতলগত করে নিতে চায়। জনগণের মুক্তির কথা যখন আমরা বলি তখন ওই সম্পদের ওপর জনগণের মালিকানার প্রশ্নটাই প্রথমে আসে, আসতে বাধ্য। আমাদের দেশ যে দরিদ্র তার কারণ সম্পদের অভাব নয়, কারণ হচ্ছে সম্পদের ওপর জনগণের মালিকানা না-থাকা, এবং সম্পদ বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া। দেশের খরচে আমরা মানুষকে শিক্ষিত করি, সেই শিক্ষিত মানুষদের স্বপ্ন থাকে বিদেশে যাওয়ার, নয়তো দেশে থেকেই বিদেশি কোম্পানিতে চাকরি করার। এক্ষেত্রে যেটা ঘটে তা হলো দেশের খরচে যে দক্ষতা তৈরি হয় তা দেশের কাজে লাগে না, ব্যয় হয় বিদেশিদের সম্পদ উৎপাদনে। তার চেয়েও যেটা নিষ্ঠুর তা হলো দেশের খনিজ সম্পদ বিদেশে চলে যাওয়া। নদীবান্ধব বাংলাদেশের নদীর নাব্যকে বাঁধ দিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের পানি আটকে রাখা। তিস্তার পানি থেকে আমাদের বঞ্চিত করে ফেনী নদীর পানি ত্রিপুরা রাজ্যে নিয়ে যাওয়া। আমাদের চট্টগ্রাম ও মোংলা দুই সামুদ্রিক বন্দর ব্যবহারের অনুমতিসহ নিরাপত্তার অজুহাতে বন্দরে রাডার স্থাপনের অনুমতিও বাংলাদেশ দিয়েছে। এতে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়টি সরকার মোটেও আমলে নেয়নি।
যাকে আমরা পরাধীনতা বলে জানি তার ভেতরকার মূল ব্যাপারটাই ছিল আমাদের সম্পদের ওপর বিদেশিদের কর্তৃত্ব। বিদেশি শাসকরা এদেশে কর্মচারী, চাকর-বাকর, দালাল ইত্যাদি তৈরি করেছে। উদ্দেশ্য ছিল এদের সাহায্যে এখানে যে সম্পদ রয়েছে তা দখল করা। কাজটা পাঠান ও মোগলরা করেছে, পরে ইংরেজরা করেছে আরও জোরেশোরে। পাঠান ও মোগলদের পাচার করা সম্পদ তবু উপমহাদেশের ভেতরেই রয়ে গেছে; ইংরেজরা তা নিয়ে গেছে নিজেদের দেশে। খনিজসম্পদ উত্তোলন, কলকারখানা স্থাপন, যান্ত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, এমনকি এক সময়ে নীল, পরে পাট ও চায়ের উৎপাদন, সব কিছুর মালিকানা ইংরেজ শাসকদের হাতেই ছিল। এবং জাহাজ ভর্তি করে তারা সোনাদানা থেকে শুরু করে কত যে অর্থ ও বিত্ত পাচার করেছে তার হিসাব বের করা কঠিন। ফলে তারা যে পরিমাণে ধনী হয়েছে আমরা ঠিক সেই পরিমাণেই নিঃস্ব হয়েছি। তাদের দেশে শিল্পবিপ্লব ঘটেছে, এবং আমরা পরিণত হয়েছি তাদের আটকেপড়া ক্রেতায়।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মূল কারণ ছিল দেশের সম্পদের ওই মালিকানাই। ইংরেজের ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রে যা ঘটেছে, তথাকথিত স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রেও তাই ঘটেছিল। পূর্ববঙ্গের সম্পদের ওপর কর্তৃত্ব পূর্ববঙ্গবাসীর ছিল না, কর্তৃত্ব ছিল পশ্চিম পাকিস্তানিদের। আমরা বলেছিলাম এদেশে যা কিছু আছে তা আমাদেরই থাকবে। ওই দাবির ব্যাপারে বাঙালিদের দৃঢ়তা দেখেই পাঞ্জাবি সেনাবাহিনী ক্ষেপে গেল, এবং গণহত্যা শুরু করে দিল, নইলে বাঙালিদের সঙ্গে ওই রকমের বিপজ্জনক খেলায় তারা মত্ত হতে যাবে কেন? যুদ্ধ শেষ হয়েছে। আমরা জয়ী হয়েছি, কিন্তু দেশের সম্পদের ওপর দেশবাসীর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি? না, হয়নি। আর সে-জন্যই তো বলতে হয় যে আমরা এখনো মুক্তি পাইনি। সামাজিক সম্পত্তি ক্রমাগত ব্যক্তিমালিকানায় চলে যাচ্ছে। কলকারখানা ঢালাওভাবে ব্যক্তিগত হয়ে গেছে। সবচেয়ে মারাত্মক যে বিপদ তা হলো দেশের সম্পদ বিদেশিদের হাতে চলে যাওয়াটা। এই ব্যাপারে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন শাসক শ্রেণি রুখে দাঁড়াবে কী, উপরন্তু দেশের সম্পদ তুলে দিতে বিদেশিদের সাহায্য করছে। এটাই হচ্ছে এখন আমাদের শাসকদের রাজনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য। আর এটা তারা করছে নিজেদের স্বার্থে। বিদেশিদের কাছ থেকে যেটুকু পাওয়া যায় তাতেই তাদের লাভ, এবং সেই লাভটাকে বিদেশে গচ্ছিত রাখাটাই নিরাপদ এই হচ্ছে তাদের নীতি।
তাদের এই নীতিকে নীতিবিগর্হিত বলার আবশ্যকতা দেখি না, একে দেশদ্রোহিতা বলাই যথেষ্ট। স্পষ্টতই এরা মনে করে যে বাংলাদেশের কোনো ভবিষ্যৎ নেই, তাই অতিদ্রুততায় যতটুকু হস্তগত করা যায় সেটুকুই লাভ। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো যত না তৎপর এদের তৎপরতা তার চেয়ে বেশি। শেখ মুজিবুর রহমান যে অতবড় নেতা হয়েছিলেন তার কারণ এদেশের সম্পদ জবরদখলকারীদের কাজে তিনি আত্মসমর্পণ করেননি, তাদের হুঙ্কার তাকে বিচলিত করেনি; এবং তিনি সপরিবারে প্রাণ দিয়েছেন সেই সব বেইমানদের হাতে যারা ব্যস্ত ছিল পুঁজিবাদের বিকাশের জন্য রাস্তা পরিষ্কার করে দিয়ে দেশের মানুষের ওপর বহুজাতিক পুঁজির শোষণকে স্থায়ী করবার কাজে। হুঙ্কার প্রদানকারীরা যেমন বেইমানরাও তেমনি ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে; মুজিব আছেন ইতিহাসের নায়ক হয়ে, এবং থাকবেনও। আজ যারা দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করার ব্যাপারে শশব্যস্ত হয়ে পড়েছে শেখ মুজিব তাদের সতর্ক করে দিচ্ছেন; সেই সতর্কবাণীতে তারা কান দেবে কি দেবে না সেটা তাদের ব্যাপার। কান না-দিলে দেশের মানুষের যে ভয়ংকর রকমের ক্ষতি হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু দেশবাসী যে তাদেরও ক্ষমা করে দেবে তেমনটা ভাববার কোনো কারণ নেই।
সম্পদের প্রশ্নে প্রথমে আসে আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারটা। আমাদের নদীগুলোর প্রায় সবকটির উৎস ভারতে। গঙ্গার ওপর ফারাক্কা ব্যারাজ তারা পাকিস্তানি আমলেই তৈরি করেছিল। সেটাকে চালু করল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পরে; তারপরে দু’দেশের মধ্যে পানিবণ্টন নিয়ে চুক্তি হয়েছে বটে, কিন্তু চুক্তি কার্যকর হয়েছে এমনটা বলা যাবে না। তিস্তার পানি নিয়ে সমস্যা আছে। এখন আবার যুক্ত হলো টিপাই মুখে বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প। ভূগর্ভস্থ তেল ও গ্যাস নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে, কেননা ভূ-এলাকা তো একই, প্রকৃতি তাকে দুই রাষ্ট্রসীমায় বিভক্ত করেনি, যা করবার রাজনীতিকরাই করেছেন।
১৯৮৬ সালে ভারতসংলগ্ন পঞ্চগড়ে জ্বালানি তেলের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল, ১৯৮৯ সালে সেখানে ঢাকঢোল পিটিয়ে তেল উত্তোলন শুরু হয়, উদ্বোধন করেন স্বৈরশাসক এরশাদ। কিন্তু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের এক সপ্তাহের মধ্যেই উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। এখন সেখানে খনির চিহ্নমাত্র নেই, লোকে চাষবাস করছে, বাংলা ও আসাম সীমান্তে গ্যাসক্ষেত্রে যে ভয়ানক সব দুর্ঘটনা ঘটেছে, যাতে আমাদের এলাকার শত শত কোটি টাকার গ্যাস সম্পদ পুড়ে গেছে, সেগুলো দুর্ঘটনা নাকি ঘটনা সে নিয়ে সন্দেহ আছে, কেননা সংলগ্ন এলাকায় ওপরের দিক থেকে ভারতে গ্যাস উত্তোলন সমানে চলছে। এশিয়া এনার্জি নামের একটি ভুয়া বিদেশি কোম্পানিকে আমাদের উত্তরাঞ্চলে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লার খনি খনন করে কয়লা উত্তোলন করে সেখানকার মানুষের স্থায়ী ক্ষতিসাধনের আয়োজন করা হয়েছিল, জনপ্রতিরোধের মুখে তা কার্যকর করা যায়নি। তবু তৎপরতার অবসান হয়নি। বিএনপি আমলে এর সূত্রপাত, তত্ত্বাবধায়ক আমলেও তা ছিল সক্রিয়, এখনো আবার চেষ্টা চালানো হচ্ছে পুনরুজ্জীবনের।
গভীর সমুদ্রে দুটি কোম্পানিকে গ্যাস উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। উত্তোলিত গ্যাসের শতকরা আশি ভাগ কোম্পানি নিয়ে নেবে, বাকি বিশভাগ আমরা পাব, কিন্তু আমরা তা ব্যবহার করতে পারব না, কেননা দূর সমুদ্র থেকে গ্যাস সৈকতে আনার মতো পাইপলাইন তৈরির সামর্থ্য আমাদের নেই, যার ফলে ওই গ্যাসও উত্তোলনকারী কোম্পানির কাছেই বিক্রি করে দিতে হবে। পরে আবার সেই গ্যাসই তাদের কাছ থেকেই এবং তাদের দ্বারা নির্ধারিত উচ্চমূল্যেই ক্রয় করতে হবে। সবমিলিয়ে অবস্থাটা দাঁড়াবে নাইজেরিয়ার মতো, যেখানে তেলের প্রাচুর্যই নাইজেরীয়দের জন্য দুর্ভাগ্য ডেকে এনেছে, এবং নাইজেরিয়া এখন বসবাসের দিক থেকে নিকৃষ্টতম দেশের একটিতে পরিণত হয়েছে।
সমুদ্রসীমা নিয়ে মায়ানমার ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরোধ রয়েছে। মায়ানমার তো মনে হয় যুদ্ধের হুমকিই দিচ্ছে। স্মরণীয় যে সে-দেশের সামরিক শাসকরা যে ক্ষমতায় রয়েছে তার পেছনে দু’টি তেল কোম্পানির অবদান অসামান্য। আমাদের দিক থেকে এখন সর্বাগ্রে প্রয়োজন সমুদ্র এলাকা নির্দিষ্ট করবার জন্য
আন্তর্জাতিক মহলে দেনদরবার করা। সেটা না করে যে-এলাকাটি আমাদের বলে এখনো চিহ্নিত রয়েছে সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলনের জন্য বিদেশি কোম্পানিকে ডেকে আনা হচ্ছে। গ্যাস উত্তোলন অবশ্যই করতে হবে, না-করলে আমরা জ্বালানি পাব কোথা থেকে, বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে কেমন করে, সার পাব কোথায়, মানুষের ঘরে চুলা জ্বলবার উপায় কী; কিন্তু উত্তোলন করা চাই গ্যাসের ওপর এদেশের মানুষের মালিকানার অধীনে, তার বাইরে নয়। নইলে স্বাধীনতার অর্থটা কী দাঁড়াবে?
দেশের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া একটা রাজনৈতিক কাজ। সরকার একাজ করতে বদ্ধপরিকর। বিরোধী দল বলে কার্যত দেশে কোনো দলই নেই। যারা আছে তারা দুর্বল তবুও তারা ক্ষীণ কণ্ঠে আওয়াজ দিচ্ছে সেটুকুই ভরসা। বোঝা যাচ্ছে যে দেশের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যাপারে আমাদের শাসকরা সবাই একই পথের পথিক, যে-পথ দেশের জন্য মঙ্গলজনক তো নয়ই, বরঞ্চ অত্যন্ত বিপজ্জনক। কিন্তু ইতিহাস তো এসব কাজ আগেও ক্ষমা করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। তবে সেই ভবিষ্যৎ আমরা পাব কি যদি এখনই প্রতিরোধ গড়ে না তুলি? প্রতিরোধ না গড়লে একাত্তরেই আমরা শেষ হয়ে যেতাম। একাত্তর কিন্তু মিথ্যা নয়, সে বলছে মুক্তির সংগ্রাম চলবেই। এবং নিরাপত্তা অর্থে বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির বংশানুক্রমিক নিরাপত্তা নয়, চাই সমগ্র দেশবাসীর জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা। এই নিরাপত্তার লক্ষ্যে সংগ্রাম করবার জন্য বড় রাজনৈতিক দলকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না; কিন্তু মানুষকে তো বাঁচতে হবে; তাই জনগণের সম্পদ রক্ষা করবে এমন রাজনৈতিক শক্তিকে বিকশিত করতে সচেষ্ট হওয়া দেশপ্রেমিক মানুষ মাত্রেরই অবশ্য পালনীয় কর্তব্য ও দায়িত্ব। এটা ভুললে যে ক্ষতিটা হবে তা হবে অপূরণীয়।
লেখক
ইমেরিটাস অধ্যাপক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়