'তালেবানি' কালচার চান শাবিপ্রবি উপাচার্য, সমালোচনার ঝড়

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১০:৩১ পিএম

আমার মনে হয় শাবিপ্রবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ওপেন কালচার এবং তালেবানি কালচারের মধ্যে পার্থক্যে কি তাই জানেন না। জানলে এ রকম বক্তব্যে তিনি দিতে পারতেন না- বলছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আল মামুন।

তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, এগুলো খুবই প্রতিক্রিয়াশীল বক্তব্য। কোন কিছু না বুঝে দেওয়া বক্তব্য। ভাঁড়ামোর তো একটা সীমা থাকে। বর্তমানে যারা ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের কোন জবাবদিহিতা নেই, দায়বদ্ধতা নেই। তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে নয় বিশেষ বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়, ফলে তারা যা ইচ্ছে বলে বেড়ান। বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়াশোনা করতে আসেন তারা প্রাপ্তবয়স্ক। ফলে তারা কী করবেন, কী বলবেন সেই দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেন নেবে? বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভালো-মন্দ বুঝেন। এখানে নজরদারি, খবরদারি চালানো বাড়াবাড়ি।

এর আগে বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপেন কালচারের তীব্র সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত তথ্য অধিকার বিষয়ক এক সেমিনারে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচারটাই ছিল অনেকটা ওপেন। এখানকার শিক্ষার্থীরা যা খুশি তাই করতে পারতো। বয়সের কারণে (১৮ বছর) তাদের মধ্যে কোনও বাধা ছিল না। কিন্তু আমি বলেছি, সাড়ে ১০টার মধ্যে হলে ঢুকতে হবে। শিক্ষার্থীরা আমার এই নির্দেশের নাম দিয়েছে তালেবানি কালচার। তাদের নাম দেওয়া তালেবানি কালচার নিয়ে আমি খুবই গৌরবান্বিত, এটা নিয়ে থাকতে চাই।

এদিকে তার এ বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা চলছে চারদিকে। অনেকেই মনে করেন, তার এ ধরনের বক্তব্য দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য পদাধিকারীদের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নটি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। গত বছর তার বিরুদ্ধে শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর থেকে তিনি অনেকটাই শিক্ষার্থীদের প্রতিপক্ষ হিসেবে নিয়েছেন বলে মনে করেন অনেকেই।

শাবিপ্রবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বক্তব্যের সমালোচনা করে কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক সালাহ উদ্দিন শুভ্র বলেন, শাবিপ্রবির উপাচার্য যা বলেছেন তা সামন্তীয় চিন্তাভাবনা। জমিদাররা তার প্রজাদের ঘরে ঢোকা, বাইরে আসা নিয়ন্ত্রণ করত। একজন উপাচার্যের কাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে প্রাধান্য দেয়া। সে অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়কে সাজানো। প্রাপ্তবয়স্ক একজন ছাত্র বা ছাত্রী কখন হলে ঢুকল সেটা বিবেচ্য বিষয় হতে পারে না। যদি কোনো অপরাধ বা দুর্ঘটনা ঘটে তার জন্য দেশে আইন আছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী লেখক আলমগীর শাহরিয়ার বলেন, মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি চরম অপশাসন ও অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়কে গৌরবান্বিত করে সাস্টের ভিসির দেওয়া বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে রাখলাম।

শাবিপ্রবির শিক্ষারথী নিয়াজ বিন আজহার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, ‘তারা একেকজন বড় বড় হুজুর হইয়া বাড়ি থাইকা আইছে। তালেবানী শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের উতলায়া পড়তাছে। মা-বাবা বাড়ি থেকে কিসের জন্য পাঠাইছে তা নিয়াও প্রশ্ন করতেছে। তা আপনাদের বাপ-মা কি পা-চাঠার জন্য, তেলবাজি করার জন্য পাঠাইছেন?’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত