৩০৬ রানের পরও ৮ উইকেটের হার বাংলাদেশের
ভারত বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে আজ অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি বাংলাদেশ।
৮ উইকেটের হারে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ শেষ
মোস্তাফিজুর রহমানকে চার মেরে অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করলেন স্টিভেন স্মিথ। অস্ট্রেলিয়া জিতেছে ৮ উইকেটে, ৩২ বল বাকি থাকতেই।
টানা ৭ জয়ে সেমিফাইনালে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। এর আগে বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডও গড়ল তারা। ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভ স্মিথ ফিফটি করেছেন, তবে অস্ট্রেলিয়া ইনিংসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক অবশ্যই মিচেল মার্শের ক্যারিয়ারসেরা ১৭৭* রানের ইনিংস। ওয়ার্নারের সঙ্গে ১২০ রানের পর স্মিথের সঙ্গে তাঁর জুটিতে উঠেছে ১৭৫ রান।
তৃতীয় ওভারে হেডকে বোল্ড করে ব্রেকথ্রু এনে দিয়েছিলেন তাসকিন। কিন্তু এরপর আসলে ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। এক মেহেদী ছাড়া খরুচে বোলিং করেছেন সবাই। ব্যাটিংয়ে দারুণ শুরুর পর শক্ত একটা ভিত পেলেও পুনেতে বাংলাদেশ থামে ৩০৬ রানেই।
পরে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং-ই বলে দেয়, ‘আরও কয়েকটি রান করতে না পারার’ সেই চিরায়ত আক্ষেপেই ভুগবে বাংলাদেশ দল। যাদের বিশ্বকাপ শেষ হলো মাত্র দুটি জয় দিয়েই। তবে আপাতত হতাশার বিশ্বকাপ শেষ, খাতা-কলমেও বাংলাদেশ এখন দর্শক।
এবার স্মিথের ৫০
আগের ম্যাচে খেলতে পারেননি ভার্টিগো উপসর্গ নিয়ে। ফিরেই রানের দেখা পেলেন স্টিভেন স্মিথ। সেমিফাইনালের আগে স্মিথ-সুলভ এক ইনিংসই খেললেন। ৪১তম ওভারে তাসকিনের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ক্যারিয়ারের ৩২তম অর্ধশতক পূর্ণ করেছেন স্মিথ।
আরেকটি ১০০ রানের জুটি
দ্বিতীয় উইকেটের পর তৃতীয় উইকেটেও ১০০ রানের জুটি। মার্শের সঙ্গী এবার স্মিথ। ১২ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর টানা দুটি শত রানের জুটি, অস্ট্রেলিয়া জয়ের পথে এগিয়ে গেছে অনেকটাই।
জয়ের পথে হাটছে অস্ট্রেলিয়া
ওয়ার্নার আউট হয়েছিলেন ২৩তম ওভারের প্রথম বলে। দ্রুত উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সুযোগ ছিল ম্যাচে ফেরার। কিন্তু স্মিথের সঙ্গে মার্শের জুটিতে নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। ৩৪ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়া ২ উইকেটে তুলেছে ২১৭ রান, ফলে শেষ ১৬ ওভারে দরকার ৯০ রান। ম্যাচে ফিরতে বাংলাদেশের করতে হবে দারুণ কিছু।
মার্শের সেঞ্চুরি
৯৯ রানে দাঁড়িয়ে টানা ৪টি বল ডট দিয়েছিলেন। নাসুম আহমেদের বলে কাভারে সিঙ্গেল নিয়ে অবশেষে শতক পূর্ণ করলেন মিচেল মার্শ। এবারের বিশ্বকাপে এটি তাঁর দ্বিতীয় শতক, ক্যারিয়ারে তৃতীয়। এবার ইনিংস উদ্বোধন করেছেন, শতক পেয়েছেন।
এবারের বিশ্বকাপে এটি ৩৩তম শতক, এক আসরে সর্বোচ্চ শতকের রেকর্ডটি ৩৮, ২০১৫ সালে।
ট্রাভিস হেড আসার পর মার্শ নেমে গেছেন তিনে, সেখানেও মার্শ পেলেন বড় ইনিংসের দেখা। নাসুমের এ ওভারের শেষ বলে স্লগ করে ছক্কা মেরেছেন স্মিথ। ৩১ ওভারে অস্ট্রেলিয়া ১৯২/২।
ক্যাচ নাকি নয়?
উদ্যাপনে ওপরে ছুড়ে মারতে গিয়েছিলেন নাজমুল। কিন্তু বল তার পায়ে লেগে পড়ে গেছে। অবশ্য এর আগে নিয়ন্ত্রণ ভালোভাবেই নিয়েছেন, সেটি বলাই যায়।
সর্বশেষ অ্যাশেজে লেগ স্লিপে স্টিভেন স্মিথের ক্যাচ নিয়ে উদ্যাপন করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন বেন স্টোকস, ধারাভাষ্যে রিকি পন্টিং মনে করিয়ে দিয়েছেন সেটি।
ওয়ার্নার আউট
মোস্তাফিজের ফুললেংথের বল। চিপ করতে গিয়ে তুলে দিয়েছেন ওয়ার্নার। মিড অনে ভুল করেননি নাজমুল। পুনেতে অবশেষে আরেকটি উইকেটের দেখা পেল বাংলাদেশ।
৫৩ রানেই থামলেন ওয়ার্নার, ১২০ রানে ভাঙল মার্শের সঙ্গে জুটি, ১৩২ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারাল অস্ট্রেলিয়া। আরও ২-১টি উইকেট নিয়ে চাপ তৈরি করতে পারবে বাংলাদেশ?
প্রসঙ্গ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি
পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশ এখন ৮ নম্বরে, নিচে আছে শ্রীলঙ্কা ও নেদারল্যান্ডস। এ ম্যাচের আগে বাংলাদেশের নেট রান রেট -১.১৪২। নয়ে থাকা শ্রীলঙ্কার নেট রান রেট -১.৪১৯।
এ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া যদি ২২.৪ ওভারের মধ্যে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে, তাহলেই শুধু শ্রীলঙ্কার চেয়ে বাজে হবে বাংলাদেশের নেট রানরেট। সেটি এখন আর হচ্ছে না, তা বলাই যায়।
তবে আগামীকাল নেদারল্যান্ডসের ম্যাচ ভারতের সঙ্গে। অবশ্য ডাচদের নেট রানরেট -১.৬৩৫। শুধু ভারতকে হারালেই চলবে না তাদের, জিততে হবে বিশাল ব্যবধানে।
দ্বিতীয়বার সেঞ্চুরির জুটি
এবারের বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বার বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় উইকেটে ১০০ রানের জুটি হলো, এর আগে ১৫১ রানের জুটি ছিল ডেভিড ম্যালান ও জনি বেয়ারস্টোর।
এদিকে মার্শের পর ৫০ ছুঁয়ে ফেলেছেন ডেভিড ওয়ার্নারও। দুজনের জুটি ১০০ পেরিয়েছে আগেই। অস্ট্রেলিয়া ১৯ ওভারে ১২২/১।
মার্শ-ওয়ার্নারের ব্যাটে এগোচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
মিচেল মার্শ পেয়েছেন ফিফটি। যা তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম হাফ সেঞ্চুরি। ওয়ার্নার তাকে দিচ্ছেন যোগ্য সঙ্গ। গড়েছেন ৮৮ রানের জুটি। তাতে অস্ট্রেলিয়া দলীয় সেঞ্চুরি পেরিয়েছে।
১৫ ওভার শেষে ১ উইকেট হারিয়ে ১০০ রান সংগ্রহ করেছে অস্ট্রেলিয়া। মার্শ ৫১ ও ওয়ার্নার ৩৮ রানে অপরাজিত।
পাওয়ার প্লেতে অস্ট্রেলিয়ার ৫৮
শুরুতে উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া। মিচেল মার্শ ও ডেভিড ওয়ার্নারের পঞ্চাশোর্ধ জুটিতে পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে ৫৮ রান করেছে পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
তৃতীয় ওভারে ট্রাভিস হেডকে বোল্ড করে দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর আর তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ।
হেডের বিদায়ের পর ক্রিজে গিয়েই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান বাড়ান মার্শ। তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন ওয়ার্নার।
২১ বলে ২ ছক্কা ও চারটি চারে ৩০ রানে খেলছেন মার্শ। ২ চারে ২৮ বলে ১৭ রান করে অপরাজিত ওয়ার্নার।
শুরুতেই তাসকিনের ছোবল, বোল্ড হেড
আগের বলে অফ সাইড দিয়ে তাসকিন আহমেদকে চার মারেন ট্রাভিস হেড। প্রতিশোধ নিতে দেরি করলেন না তাসকিন। বোল্ড করে ফেরালেন অস্ট্রেলিয়া ওপেনারকে।
তৃতীয় ওভারে তাসকিনের পঞ্চম বলটি ছিল ভালো লেংথে। তবে বড় শটের জন্য ব্যাট চালান হেড। সামান্য নিচু হয়ে যাওয়া বল তার ব্যাটের নিচের দিকের কানায় লেগে আঘাত করে অফ স্টাম্পে।
২ চারে ১০ রান করে ফেরেন হেড। ৩ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ১ উইকেটে ১২। ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে উইকেটে নতুন ব্যাটসম্যান মিচেল মার্শ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ৩০৬
সুরটা বেঁধে দিয়েছিলেন লিটন দাস ও তানজিদ হাসান তামিম। তাদের গড়ে দেওয়া ভিতের ওপরে দাঁড়িয়ে চমৎকার এক ফিফটি করলেন তাওহীদ হৃদয়। সঙ্গে বাকিদের টুকটাক অবদানে তিনশ ছাড়াল বাংলাদেশের পুঁজি।
বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে আজ পুনেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগে ব্যাটিং করে ৮ উইকেটে ৩০৬ রান করেছে বাংলাদেশ।
চলতি বিশ্বকাপে এই প্রথম তিনশ ছাড়াল বাংলাদেশের রান। কোনো শতক ছাড়াই বাংলাদেশের এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ স্কোর ওয়ানডেতে।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেলেন হৃদয়। ২ ছক্কা ও ৫ চারে ৭৯ বলে ৭৪ রান করেন তিনি। নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে আসে ৬ চারে ৪৫ রান।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে দেন লিটন দাস ও তানজিদ তামিম। ৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন তারা। ৬ চারে ৩৬ রান করা তানজিদের বিদায়ে ভাঙে তাদের প্রতিরোধ। লিটনও ফেরেন ৫ চারে ৩৬ রান করে।
এরপর ইনিংসের দ্বিতীয় বড় জুটি পায় বাংলাদেশ। হৃদয়ের সঙ্গে শান্তর যুগলে রান আসে ৬৬ বলে ৬৩। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক শান্তর বিদায়ের পর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ২৮ বলে ৩২ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। ২ ছক্কার সঙ্গে মারেন একটি চার।
মুশফিকুর রহিমের ২১ রান, শেষ দিকে মেহেদী হাসান মিরাজের ২০ বলে ২৯ রানের ইনিংসে তিনশ করেন বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
ফিরলেন মুশফিক
আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের জন্য মঞ্চ ছিল প্রস্তুত। কিন্তু সুযোগটি কাজে লাগাতে পারলেন না মুশফিকুর রহিম। বড় শটের চেষ্টায় ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন অভিজ্ঞ এই কিপার-ব্যাটসম্যান।
অ্যাডাম জাম্পার করা ৪৩ ওভারের প্রথম বলটি ছিল কিছুটা শর্টার লেংথে। জায়গা বানিয়ে মিডউইকেট দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন মুশফিক। কিন্তু যতটুকু প্রয়োজন ছিল, বল ততটুকু ওড়াতে পারেননি তিনি।
বল সোজা চলে যায় মিডউইকেটে থাকা প্যাট কামিন্সের হাতে। এক ছক্কায় ২৪ বলে ২১ রান করে ফেরেন মুশফিক।
৪৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ৫ উইকেটে ২৫৭। ফিফটি করা হৃদয়ের সঙ্গে উইকেটে নতুন ব্যাটসম্যান মেহেদী হাসান মিরাজ।
বাংলাদেশের ২০০
ক্রিজে গিয়েই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পথ বেছে নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। সঙ্গে তাওহিদ হৃদয়ের দারুণ ব্যাটিংয়ে ৩২তম ওভারেই ২০০ রান স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ।
৩২ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ৩ উইকেটে ২০১। ১৫ বলে ৩ ছক্কায় ২৪ রানে খেলছেন মাহমুদউল্লাহ। তিন ছক্কার দুটিই মেরেছেন মিচেল মার্শের করা ৩২তম ওভারে, আরেকটি শন অ্যাবটকে।
ফিফটির দুয়ারে আছেন হৃদয়। দুটি করে ছক্কা-চারে ৪৩ বলে ৪১ রানে খেলছেন তরুণ এই ব্যাটসম্যান।
অহেতুক রান আউটে উইকেট ছুঁড়ে এলেন শান্ত
দারুণ ব্যাটিং করছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছিলেন ইনিংস। বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ছিলেন ফিফটির দুয়ারে। কিন্তু অহেতুক রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরলেন তিনি।
শন অ্যাবটের ডেলিভারিটি স্কয়ার লেগে খেলেন শান্ত। এক রান নেওয়ার পর অহেতুক দ্বিতীয় রানের জন্য দৌড় দিয়েই নিজের উইকেট খোয়ালেন তিনি। ডাইভ দিয়েও সময় মতো ক্রিজে পৌঁছাতে পারেননি তিনি। মারনাস লাবুশেনের দারুণ থ্রোতে রান আউট হন শান্ত।
৬ চারে ৫৭ বলে ৪৫ রান করেন শান্ত। ভাঙে ৬৬ বল স্থায়ী ৬৩ রানের দারুণ এক জুটি। তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে মাঠে নতুন ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ।
শান্ত-হৃদয়ের জুটিতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ
দ্রুত দুই উইকেট হারানোর ধাক্কা বাংলাদেশ সামলে উঠেছে নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহিদ হৃদয়ের জুটিতে। দারুণ ব্যাটিংয়ে দলের রান এগিয়ে নিচ্ছেন এই দুই ব্যাটসম্যান।
তৃতীয় উইকেটে তাদের জুটিতে ৫০ রান এসেছে ৫০ বলে। ২৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ১৬৩।
শান্ত খেলছেন ৪০ রানে। আর হৃদয় অপরাজিত আছেন ৩৫ রানে।
ছক্কার চেষ্টায় অক্কা লিটন
শুরুটা ভালোই ছিল লিটন কুমার দাসে। দারুণ ব্যাটিংয়ে দলের ও নিজের রান বাড়াচ্ছিলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। কিন্তু এরপর যেন ধৈর্য হারিয়ে ফেললেন তিনি। ছক্কার চেষ্টায় নিলেন বিদায়।
অ্যাডাম জাম্পার সামান্য ঝুলিয়ে দেওয়া বলে লং অন দিয়ে ওড়ানোর চেষ্টা করেন লিটন। কিন্তু তার শটে যথেষ্ট জোর ছিল না। লং অনে সহজ ক্যাচ মুঠোয় জমান মারনাস লাবুশেন। ওয়াটসনের ভাষায়, ‘ক্যাচিং অনুশীলন।’
৫ চারে ৪৫ বলে ৩৬ রান করে ফিরলেন লিটন। এতে সমাপ্তি হলো আরেকটি সম্ভাবনাময় ইনিংসের।
১৭ ওভারে বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ১০৬। ৯২ বলে দলীয় ১০০ রান করেছিল এশিয়ার দেশটি। ২০ রানে খেলছেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান তাওহিদ হৃদয়।
রিভিউ হারাল অস্ট্রেলিয়া
পরপর দুই ওভারে বাংলাদেশকে দুটি ধাক্কা দিতে চেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে রিভিউ নিয়েও নাজমুল হোসেন শান্তকে ফেরাতে পারেনি তারা।
ত্রয়োদশ ওভারে লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পাকে সুইপ করেন শান্ত। বল তার ব্যাট ফাঁকি দিয়ে আঘাত করে প্যাডে। অস্ট্রেলিয়ার জোরালো আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। পরে রিভিউ নেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স।
রিপ্লেতে দেখা যায় বল তার গ্লাভসে লেগে আঘাত করেছে প্যাডে। এতে একটি রিভিউ হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তখন ৬ রানে খেলছিলেন শান্ত।
১৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ১ উইকেটে ৯৬।
ভালো শুরুর পর ফিরলেন তানজিদ তামিম
বেশ আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। দারুণ সব শটে বাউন্ডারি তুলে নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সম্ভাবনাময় ইনিংসটিকে বেশিদূর টানতে পারলেন না তরুণ এই ওপেনার।
দ্বাদশ ওভারে শন অ্যাবটের বলে ক্যাচ তুলে বিদায় নিলেন তিনি ৩৬ রানে। ৬ চারে গড়া তার ৩৪ বলের ইনিংস। তানজিদ তামিমের বিদায়ে ভেঙেছে ৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটি।
১২ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ১ উইকেটে ৮৩। লিটন দাস খেলছেন ৩১ রানে। ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত।
পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের ৬২
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দিয়েছেন দুই ওপেনার। লিটন দাস ও তানজিদ হাসান তামিমের চমৎকার ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লে কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ।
প্রথম ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ৬২। তরুণ তানজিদ তামিম ২৮ রানে খেলছেন। আর অভিজ্ঞ লিটন দাস অপরাজিত আছেন ২৪ রানে। দুইজনের মেরেছেন ৪টি করে চার।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার আশা আগেই গুঁড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের। তবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলার সম্ভাবনা এখনও বেঁচে আছে দলটির। এর জন্য আজ অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে হবে।
ম্যাচটি অল্প ব্যবধানে হারলেও অবশ্য ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে পারবে বাংলাদেশ। তবে এর জন্য নেদারল্যান্ডসকে তাদের পরের ম্যাচে হারতে হবে।
৩ পরিবর্তন বাংলাদেশ একাদশে
সবশেষ ম্যাচে আঙুলে চোট পেয়েছেন সাকিব আল হাসান। তাই আজকের ম্যাচে একাদশে একটি পরিবর্তন অবধারিতই ছিল। তবে বেশ কয়েকটি বদল নিয়েই খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ।
একাদশে ফিরেছেন অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার শেখ মেহেদি হাসান, বাহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ ও বাহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান।
বিশ্বকাপে আগের আট ম্যাচের একাদশে তিন পেসার নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে তারা নামছে দুই পেসার নিয়ে। পেস বিভাগে থাকছেন তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজ।
আগের ম্যাচের একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন দুই পেসার শরিফুল ইসলাম ও তানজিম হাসান সাকিব।
বাংলাদেশ একাদশ: লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, তাওহীদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ, শেখ মেহেদি হাসান, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান।
অস্ট্রেলিয়ার একাদশে পরিবর্তন দুটি। বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও মিচেল স্টার্ককে।
অস্ট্রেলিয়া একাদশ: প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), ডেভিড ওয়ার্নার, মিচেল মার্শ, ট্রাভিস হেড, স্টিভেন স্মিথ, মার্কাস স্টয়নিস, জশ ইংলিস, মারনাস লাবুশেন, অ্যাডাম জাম্পা, জশ হ্যাজেলউড, শন অ্যাবট
টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠাল অস্ট্রেলিয়া
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের খেলার আশা শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। এখন চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে জায়গা করে নেওয়ার জন্য লড়ছে বাংলাদেশ। আগামী ২০২৫ সালের আইসিসির এই টুর্নামেন্টে জায়গা পেতে চলতি বিশ্বকাপের পয়েন্ট টেবিলে প্রথম ৮ দলের মধ্যে থাকতে হবে তাদের।
চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে আজ অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের আজ হারাতে হবে তাদের। ছোট ব্যবধানে হারলে থাকবে সম্ভাবনা, সঙ্গে কামনা করতে হবে নেদারল্যান্ডসের হার।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আঙুলে চোট পাওয়া নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। টস করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। কয়েন ভাগ্য পাশে পাননি তিনি। টস জিতেছেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।