শেষ সময়ে ছাড়ের ছড়াছড়ি

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:০৫ এএম

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৮তম আসরের তৃতীয় শুক্রবার ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের ভিড় যেমন ছিল তেমনি তাদের জন্য বিভিন্ন পণ্যে মূল্যছাড়ও ছিল।

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণ ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। স্টলগুলোতে চলছে ছাড়ের ছড়াছড়ি। মেলা অনেকটা শেষের দিকে হওয়ার কারণে ক্রেতা টানতে ব্যবসায়ীরা নিজেদের পণ্যে ছাড় দিচ্ছেন। ছাড় পেয়ে ক্রেতারাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

মেলা প্রাঙ্গণের খাবারের দোকানগুলোতেও উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। পণ্য বিক্রির প্রচারণার পাশাপাশি ফ্রিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি প্রাইভেট হাসপাতালগুলো স্টল বসিয়ে মেলায় আসা দর্শনার্থীদের সেবা দিচ্ছেন। ফলে মেলায় আসা মানুষ ছুটির দিনটি উপভোগ করেছেন পরিপূর্ণভাবে।

নাজমা আক্তার নামের একজন দর্শনার্থী বলেন, সরকারি ছুটির দিন থাকায় সাধারণত শুক্রবারে মেলা জমজমাট হয়। কারণ সরকারি চাকরিজীবীরা এ দিন বন্ধ থাকায় তাদের পরিবারকে সময় দিতে পারেন। তার স্বামীও সরকারি চাকরিজীবী। সে কারণে তারা পরিবারসহ মেলায় আসতে পেরেছেন। তিনি জানান, কিছু গৃহস্থালী পণ্য কিনেছেন। পছন্দ হলে আরও কিছু কেনাকাটা করবেন।

আরেক দর্শনার্থী আক্তার মিয়া জানান, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় এসেছেন। ঘোরাঘুরি করেছেন। কিন্তু খাওয়ার জন্য ঢুকে রেস্টুরেন্টে জায়গা পাননি। খাবারের দাম অনেক বেশি। বাধ্য হয়ে বেশি দাম দিয়ে খাবার খেতে হয়েছে।

মেলায় আসা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী জান্নাতুল রহমান স্নেহা বলেন, গতবারের তুলনায় এবার বাণিজ্য মেলায় বেশ ভিড়। কিন্তু মেলায় অনেক নিম্নমানের পণ্য এসেছে। যা আন্তজার্তিক বাণিজ্য মেলার সুনামকে ক্ষুন্ন করছে। মেলায় বেশ কিছু পণ্য রয়েছে যা নিম্নমানের, কিন্তু দাম অনেক বেশি। আগামী বছর বাণিজ্য মেলায় আরও বেশি বিদেশি স্টল বসবে, এমনটাই আশা করেন তিনি।

মেলায় অংশ নেওয়া মিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইসাহাক মিয়া বলেন, গতবারের তুলনায় এ বছর মেলায় পণ্য বেশি বিক্রি হবে। আশা করি এ বছর মেলায় লোকজনের সমাগম ভালো হবে। বেচাবিক্রিও ভালো হবে।

হাজী বিরিয়ানী নামের খাবার দোকানের মালিক মো. মোজাম্মেল বলেন, শুক্রবার হওয়ায় খাবারের দামটা বেশি হয়। ভিড় বেশি থাকায় ঠিক মতো বসতে দেওয়া যায় না।

মেলায় প্রবেশের টিকিট ইজারাদার ম্যানেজার আবদুল আজিজ বলেন, গতবারের তুলনায় এবারের মেলাটা আরও বেশি জমজমাট। মেলার ২০তম দিন গতকাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৩৫ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। দর্শনার্থীদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব বিবেক সরকার বলেন, ‘খাবারের হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আসছে তা আমরা খতিয়ে দেখছি।’ এ ছাড়া ভোক্তা অধিকার নিয়মিত অভিযান করছেন বলে তিনি জানান।

বিআরটিসির ম্যানেজার (অপারেশন) মো. কামরুজ্জামান জানান, কুড়িল বিশ্বরোড থেকে মেলা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত বিআরটিসির ১৩০টি বিশেষ বাস রয়েছে। কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় ১০টি টিকিট কাউন্টার, মেলা প্রাঙ্গণে ১০টি টিকিট কাউন্টার চালু রয়েছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ থেকে ১০টি বিআরটিসি শাটল বাস, নরসিংদী থেকে ৫টি, ফার্মগেট খেজুরতলা থেকে ৩০টি দ্বিতল শাটল বাস চালু করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত