রোজায় স্তন্যদানকারী মায়েদের করণীয়

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২৮ এএম

যেসব মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান, রমজান মাস এলে তাদের বেশ চিন্তিত দেখায়। রোজা রেখে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো যাবে কিনা? শিশু পর্যাপ্ত বুকের দুধ পাবে কিনা, মা শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করবেন কিনা এমন প্রশ্নে তারা ঘুরপাক খান।

এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো

রোজা রেখে মা ও তার সন্তানের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে রোজা  না রাখাই শ্রেয়। ইসলামে এসব নিয়ে বাড়াবাড়ি বা জোর-জবরদস্তি নেই! ইচ্ছা করলে পরবর্তী সময়ে রোজাগুলো কাজা আদায় করা যাবে।

শিশুর বয়স ছয় মাসের কম হলে বা শিশুটি পুরোপুরি বুকের দুধের ওপর নির্ভরশীল হলে রোজা রাখা উচিত নয়। তবে শিশুর বয়স ছয় মাসের বেশি হলে, বুকের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য খাবার খেতে থাকলে, সে ক্ষেত্রে স্তন্যদানকারী মায়েদের রোজা রাখতে তেমন সমস্যা নেই এবং রোজা ফরজ।

জেনে রাখা দরকার :রোজা রেখে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে কোনো ক্ষতি হয় না। রোজার কারণে মায়ের শরীরে ক্যালরির ঘাটতি হলেও তা বুকের দুধের পরিমাণের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।

শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান এমন মায়েদের ওপর গবেষণা করে দেখা গেছে, দুধের পরিমাণ বিশেষ না কমলেও দুধের গঠন উপাদানের সামান্য পরিবর্তন হয়। অর্থাৎ জিংক, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাসিয়ামের পরিমাণ সামান্য কমে যায়। তবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে শিশু সহজে খাপ খাইয়ে নেয় এবং এতে শিশুটির বৃদ্ধি বা ওজনের ওপর তেমন প্রভাব পড়ে না। তবে খেয়াল রাখতে হবে, শিশুটি সঠিক পরিমাণে পুষ্টি না পেলে কিন্তু কান্নাকাটি করবে, তার প্রস্রাব কমে যাবে।

করণীয় : যেসব মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন, তারা নিজের যতœ সঠিকভাবে নিবেন। রোজা রেখে শিশুকে দুধ পান করানো মায়েদের কিছু বিষয় খেয়াল রাখা উচিত। যেমন

স্তন্যদানকারী মায়েরা ইফতারের পর অল্প অল্প পানি পান করতে থাকুন। সাহরিতেও বেশি পানি পান করুন।

খাওয়ার পর চা বা কফি পান না করাই ভালো। এগুলো শরীরকে আরও বেশি পানিশূন্য করে ফেলে। একান্তই পান করতে চাইলে হালকা লিকারের রঙ চা পান করুন।

তেলে ভাজা, পোড়া বা মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করুন। পরিবর্তে

টাটকা ফলের রস, শরবত, পরিমিত ভাত, মাছ বা মাংস, ডিম, ডাল,

সবজি ও সালাদ খান।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালসিয়াম, মাল্টিভিটামিন, মাল্টিমিনারেলসমৃদ্ধ খাবার খাবেন।

ত্বন্যদানের কিছু নিয়ম :শিথিল হন। আলতো চেয়ারে বসুন বুকের দুধ খাওয়ানোর অভিপ্রায়ে।

নবজাতককে কোলে নিন। ওর মাথাটা কনুইয়ের মধ্যে নিন। ও আপনার দিকে ফিরে থাকবে। পা দুটো থাকবে ঢালু করে নিচের দিকে। আপনার হাত দিয়ে ওকে বেড় দিয়ে ধরে রাখুন।

আপনার অন্য হাত দিয়ে স্তনের নিচে আঙুল দিয়ে সাপোর্ট দিন। বোঁটাটি আলতো করে ওর মুখের ভেতর ঢুকিয়ে দিন। ও বোঁটার সঙ্গে সঙ্গে চারপাশের কালো অংশ (এরিওলা) টুকুও মুখের ভেতর ঢুকিয়ে নেবে এবং একটি নলের মতো তৈরি করে চুক চুক করে

টানতে থাকবে।

এক পাশে স্তন পুরোপুরি টানার পর অন্য পার্শ্বের স্তনে ধরুন।

পরের বার যখন দুধ খাওয়াবেন তখন শেষের স্তনটি দিয়ে শুরু করুন।

কতক্ষণ? যতক্ষণ ও টানবে, ততক্ষণ।

কতক্ষণ পর পর খাওয়াবেন? যখনই ও দুধ খেতে চাইবে তখনই দিতে হবে।

প্রথম ২-৩ দিন কষ কষ দুধ আসে একে শাল দুধ বলে, খুবই পুষ্টিসম্পন্ন এই শাল দুধ। তারপর বাচ্চা যত চুষবে তত আপনার ‘দুধ নামবে’।

দুধ খাওয়ানোর পর পেটের বাতাস বের করুন। কাঁধে নিয়ে করতে পারেন বা কনুইয়ের মধ্যে ওর দেহ নিয়ে কোলের মধ্যে বসায়ে রাখুন।

দিনে রাতে শিশু যদি ৬ বার প্রস্রাব করে তাহলে বুঝবেন ও যথেষ্ট দুধ পাচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত