বগুড়া মাতালেন আকবর

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৩ এএম

রাজশাহী এবং বগুড়া, এই দুই ভেন্যুর উইকেটের প্রশংসা সব সময়ই শোনা যায় ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের মুখে। এই দুই ভেন্যুতে সোমবার একযোগে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ৫০ ওভারের ম্যাচের টুর্নামেন্ট। প্রথম দিনেই দুই ভেন্যুতে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন দুই ব্যাটসম্যান। বগুড়ায় নর্থ জোনের হয়ে সেঞ্চুরি করেছেন আকবর আলি, রাজশাহীতে সাউথ জোনের আফিফ হোসেন। উদ্বোধনী দিনের খেলায় সেন্ট্রাল জোনকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে সাউথ জোন, নর্থ জোন ৫৪ রানে হারিয়েছে ইস্ট জোনকে।

নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে নর্থ জোনে খেলছেন জাতীয় দলের একঝাঁক তারকা ক্রিকেটার। তবে তাদের ভেতর অধিনায়ক শান্ত আর তানজিদ হাসান তামিমই ব্যাট হাতে ভালো করলেন। তামিম করেছেন ৪৪ বলে ৫৪, শান্ত ৮৭ বলে ৬৮। ওয়ানডে দলে ব্রাত্য লিটন দাস বিসিএলের শুরুতে ভালো করতে পারেননি, ২৪ বলে ১০ রান করে বোল্ড হয়েছেন খালেদ আহমেদের বলে। তাওহীদ হৃদয়ের ৩ বলে ২ রান করে নাসুম আহমেদের বলে ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে পারভেজ হোসেন ইমনের হাতে। নর্থ জোনের ইনিংসটা বড় হয়েছে আকবরের ব্যাটে চড়ে। সময়োপযোগী এবং কাক্সিক্ষত গতিতে রান তুলেছেন আকবর। সমসাময়িকরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখলেও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক এখনো ঘরোয়া ক্রিকেটের গ-ি পার করতে পারেননি। অথচ ঘরোয়া প্রায় সব আসরেরই শিরোপা উঠেছে আকবরের হাতে। বিসিএল ওয়ানডে টুর্নামেন্টের বর্তমান শিরোপাও তার হাতেই। এবারের আসরে প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি করে আকবর যেন জানান দিলেন, সমসাময়িক কারও চেয়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই। ৮৭ বলে ১১১ রান করেছেন আকবর, ৮টি চার আর আধ ডজন ছক্কা মেরেছেন। শেষদিকে শরিফুলের ২০ রান আর আব্দুল গাফফার সাকলায়েনের ১৭ রানে নর্থ জোন সবকটি উইকেট হারিয়ে করে ৩৩৫ রান। চার উইকেট নিয়েছেন খালেদ। জবাবে মুমিনুল হকের ৮৩, নাঈম হাসানের ৫০* আর অধিনায়ক ইয়াসির আলি রাব্বির ৪২ রানের পরও ৪৯.৪ ওভারে ২৮১ রানে অলআউট হয়ে যায় ইস্ট জোন। ৫৭ রানে ৪ উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। জোড়া শিকার নাহিদ রানা ও এসএম মেহেরব হাসানের। ৫৪ রানে ইস্ট জোনকে হারিয়ে জয়ে আসর শুরু করল গত আসরের শিরোপাজয়ী নর্থ জোন।

বিপিএলে পাওনা নিয়ে যে শঙ্কাটা ছিল নাঈম শেখের, সেটা কেটে গেছে বিসিবির দেওয়া চেক হাতে পেয়ে। কোটি টাকার নাঈম বছর দুয়েক পর ওয়ানডে দলে সুযোগ পেয়েছিলেন গত বছর। ফেরার ম্যাচে ৭ রানের বেশি করতে পারেননি নাঈম। এবারের বিসিএল হতে পারে তার দলে ফেরার পথ, প্রথম ম্যাচে নাইম করেছেন ৭৮ বলে ৬৯ রান। মাহফিজুল ইসলাম রবিনের ৬৩, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের ৬৭ রানে সেন্ট্রাল জোন ৭ উইকেটে করে ২৬৪ রান। জোড়া শিকার সৌম্য সরকার ও তানভির ইসলামের। ১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে উইকেট শূন্য মোস্তাফিজুর রহমান, ৫ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে আর বোলিং করেননি মেহেদী হাসান মিরাজও।

বোলিংয়ে সৌম্য সফল হলেও ব্যর্থ ব্যাটিংয়ে। আবু হায়দার রনির বলে সৌম্যর গোল্ডেন ডাক। আনিসুল ইসলাম ৪৩ ও জাওয়াদ আবরার ৪০ রান করে আউট হয়ে গেলেও আফিফ হোসেন ধ্রুব নটআউট ছিলেন ১০০ রানে, সঙ্গে মোহাম্মদ মিঠুনের রান ৭২*। এই দুজনের ব্যাটেই লক্ষ্যটা সহজেই ছুঁয়ে ফেলে সাউথ জোন। ৪৫.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৬৭ রান তুলে সাউথ জোন ম্যাচটি জিতে যায় ৭ উইকেটে। দুই দিন বিরতি দিয়ে ২৬ তারিখ হবে দ্বিতীয় ম্যাচ, রাজশাহীতে নর্থ জোন খেলবে সাউথ জোনের বিপক্ষে আর বগুড়ায় ইস্ট জোনের প্রতিপক্ষ সেন্ট্রাল জোন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত