ব্যাংক হিসাব খুলতে আর টিআইএন লাগবে না। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় জমি–ফ্ল্যাটের বণ্টননামা, দলিল নিবন্ধন এবং নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব ছিল। অর্থবিলে সংশোধনী এনে এই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দল ও বিরোধী দলের নেতারা।
সংসদ সদস্যদের নানামুখী সমালোচনা, জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীর পর জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি 'অর্থবিল ২০২৬'। পাস হওয়া ২০২৬ সালের অর্থবিলে পাসের সময় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বাজেটে প্রকৃত মূল্য ও মৌজা মূল্যের পার্থক্য নিরসনে এবারের বাজেটে অর্থবিলের মাধ্যমে একটি বিশেষ বিধান রাখা হয়েছিল। তবে এটি কালোটাকা বৈধ করার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে—এমন সমালোচনার পর অর্থ বিল থেকে পুরো বিধানটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ১০ শতাংশ কর বহাল রাখা হয়েছিল। অর্থবিলে তা কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে আবাসন খাতে নির্ধারিত কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যেখানে অর্থের উৎস নিয়ে কোনো সংস্থা প্রশ্ন করতে পারবে না বলে বিধান ছিল। এ নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা হয়। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এই সিদ্ধান্তের কঠোর বিরোধিতা করেছিল।
শেষ পর্যন্ত সরকার এই 'ইনডেমনিটি' বা দায়মুক্তির সুবিধা বাতিল করেছে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, এখন থেকে যে কেউ চাইলে নিয়মিত করের সঙ্গে আরও ১০ শতাংশ জরিমানা দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করতে পারবেন। তবে ওই অর্থের উৎস নিয়ে যেকোনো সংস্থা প্রশ্ন তোলার আইনি অধিকার রাখবে। ফলে 'কালো টাকা' সাদা করার বিশেষ সুবিধাটি কার্যত আর থাকছে না।
এ ছাড়া সরকার সোনার ওপর মূলধনী লাভ কর (ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স) বর্তমান ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা করছে।
প্রস্তাবিত অর্থবিলে করদাতার রিটার্নে ঘোষিত সোনা, রুপা, গহনা, মূল্যবান পাথর, হীরা, মুদ্রা, ডিজিটাল মুদ্রা, শিল্পকর্ম, প্রাচীন নিদর্শন ও ক্লাব সদস্যপদ বিক্রি বা হস্তান্তর থেকে অর্জিত লাভকে মূলধনী লাভ হিসেবে গণ্য করে ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছিল।
এ ছাড়া ট্রেজারি বিল, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, ডিবেঞ্চার, সুকুক ও অন্যান্য শরিয়াহভিত্তিক সিকিউরিটিজ এবং বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও স্টক বিক্রি থেকে অর্জিত মূলধনী লাভের ওপরও ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সোনা ও গহনা বিক্রির লাভের ওপর কর আরোপের এই প্রস্তাব এসেছে।
অনলাইন ভিডিওভিত্তিক সেবা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সার্চ ইঞ্জিনে বিজ্ঞাপনের ওপর প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে উচ্চরাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার করের হার বাড়াবে না; বরং করের আওতা সম্প্রসারণ করবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, করনীতি ও কর প্রশাসনকে পৃথক করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং কর ফাঁকি রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বাড়ানো হবে এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।