পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অডিট আপত্তি শূন্যে নামিয়ে আনার নির্দেশনা ইউজিসির

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অডিট আপত্তির সংখ্যা শূন্য পর্যায়ে নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন  বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। এ লক্ষ্যে পুরোনো অডিট আপত্তি ধীরে ধীরে নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি নতুন করে যাতে কোনো আপত্তি না আসে, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইউজিসি অডিটোরিয়ামে ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই অডিট আপত্তির সংখ্যা প্রতিবছর বাড়ছে। এ বছর বৃদ্ধির হার গত বছরের চেয়েও বেশি। বিষয়গুলো প্রকাশ্যে এলে মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয় যে সরকারি অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে না।

তিনি বলেন, “আমাদের এই মুহূর্তের সিদ্ধান্ত হচ্ছে, আমরা শূন্য অডিট আপত্তিতে পৌঁছাতে চাই।”

পুরোনো অডিট আপত্তি এক দিনে সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরোনো আপত্তিগুলো ধীরে ধীরে কমাতে হবে এবং নতুন কোনো আপত্তি যাতে না আসে, তা নিশ্চিত করতে হবে। অডিট আপত্তির বড় একটি কারণ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত (পিপিআর) এবং আর্থিক বিধিমালাসমূহ যথাযথভাবে অনুসরণ না করা। ক্রয়কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পিপিআর সম্পর্কে সচেতন ও প্রশিক্ষিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে ইউজিসি সহযোগিতা করবে। আর্থিক ব্যবস্থাপনার নিয়মও যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় সংজ্ঞাগতভাবেই একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তার প্রশাসনিক, একাডেমিক ও আর্থিক স্বাধীনতা থাকা উচিত। তবে বাস্তবতার কারণে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত একাডেমিক স্বাধীনতা ভোগ করে; প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা পুরোপুরি ভোগ করতে পারে না।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, আর্থিক স্বাধীনতা নিজ উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহ এবং সরকারের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ শৃঙ্খলার সঙ্গে আইন ও বিধিবিধান মেনে খরচ করা ও তা প্রমাণ করতে পারার ওপর নির্ভর করে।

সরকার আইন ও বিধি তৈরি করে এবং বিশ্ববিদ্যালয় তা বাস্তবায়ন করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইউজিসি সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে মাত্র।

তিনি বলেন, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে কোনো নতুন নিয়ম তৈরি করে চাপিয়ে দিতে চাই না। সরকারের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় করতে চাই, যাতে কোনো ধরনের দ্বৈততা কিংবা দ্বন্দ্ব তৈরি না হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনও থাকবে, আবার সরকারের আইন ও বিধিবিধানও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে।”

নিয়োগ, পদোন্নতি ও সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনে নিয়ম মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অতীতের অনিয়মের কারণে তৈরি জটিলতা নিয়মের মধ্যে থেকে সমাধানের চেষ্টা চলছে। এখন থেকে নতুন কোনো অনিয়ম না হয় সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।

জনবল নিয়োগের আগে প্রয়োজনীয়তা যথাযথভাবে যাচাই এবং জোরালো তথ্য-উপাত্ত দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৩ সালে একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হলেও ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালেও তারা নিয়োগ দিতে সক্ষম হয়নি। এর অর্থ হলো, আগের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে ভুল ছিল।

তিনি বলেন, “আমরা সহযোগিতা করতে চাই। আপনারা যদি যৌক্তিক প্রস্তাব দেন, যথাযথ তথ্য দেন, তাহলে কমিশন আপনাদের প্রস্তাব দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করবে।”

উচ্চশিক্ষার রূপান্তরে ইউজিসির কৌশলগত পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে বর্তমান বাজেট বা উন্নয়ন বরাদ্দের কাছাকাছি বা তার চেয়েও বেশি অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। এজন্য আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, “স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারলে সরকার, সমাজ ও রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আস্থা রাখবে। তখন অর্থায়ন কোনো বড় সমস্যা হবে না। আমাদের শুধু আস্থা অর্জন করলেই হবে না, জনগণের কাছে সেই আস্থা দৃশ্যমান করতে হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ইউজিসির সমন্বয় বাড়াতে প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা এবং সরকারি নিয়মকানুন শেয়ারের কথা জানান তিনি। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ডিজিটাল সংযোগ তৈরির কাজও চলছে; বিদ্যমান সফটওয়্যার পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এতে যুক্ত করা হবে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন। তিনি বলেন, দেশে ৬০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত; এর মধ্যে ৫৭টির কার্যক্রম চলমান। কর্মশালাটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, সরকারের অগ্রাধিকার ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে। যৌক্তিক চাহিদা দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি আর্থিক শৃঙ্খলা ও সরকারি আইন, বিধি ও প্রবিধান মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব ও অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন ইউজিসির সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অর্থ, হিসাব ও বাজেট বিভাগের উপপরিচালক মো. এমদাদুল হক। এতে ৩০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। এ ছাড়া অর্থ, হিসাব ও বাজেট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন এবং একই বিভাগের উপপরিচালক মো. এমদাদুল হক ও মো. হাফিজুর রহমান বিষয়ভিত্তিক সেশন পরিচালনা করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত