রাজধানীর সবুজবাগ, ভাটারা, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী ও আজিমপুর থেকে দুই নারীসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে মরদেহগুলোর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। নিহতরা হলেন সবুজবাগের গৃহবধূ আফরোজা আইরিন (৪৮), ভাটারার প্রবাসফেরত তামিম মোস্তফা (২২), ডেমরার ব্যবসায়ী জীবন মিয়া (৩৩), যাত্রাবাড়ীতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি (২৫) ও আজিমপুরের বৃদ্ধা আঙ্গুর নেছা (৭২)।
সবুজবাগের বাসাবোতে পারিবারিক কলহের জেরে সৎ ভাই ও তার স্ত্রীর ধাক্কায় আফরোজা আইরিন (৪৮) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত আফরোজা বাসাবোর আহমেদবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় স্বামী বেলাল হোসেনের সঙ্গে থাকতেন। তিনি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার এখলাছপুর গ্রামের আনোয়ার উল্লাহর মেয়ে।
ভাটারার তামিমের বাবার নাম কামাল মোস্তফা। তার বাড়ি জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানা এলাকায়। সুরতহাল প্রতিবেদনে এসআই মো. সেলিম শাহ উল্লেখ করেন ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গত বুধবার দিবাগত রাতে ভাটারা কুড়িল বিশ্বরোড মেম্বার বাড়ি রোড চান মিয়ার বাসার চতুর্থ তলার মেস থেকে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত অবস্থা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আসার পর থেকে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। এই কারণেই তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এদিকে ডেমরার জীবন মিয়ার বাবার নাম আব্দুল মজিদ মিয়া। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ মুড়াপাড়া দড়িকান্দি এলাকায়। অটোরিকশার ব্যবসা ও মাছের খামার রয়েছে তার। সুরতহাল প্রতিবেদনে এসআই আবুল কালাম উল্লেখ করেন, বৃহস্পতিবার সকালে ডেমরা পশ্চিম হাজীনগর প্রাইম কেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের পাশে ক্যানেলপাড় সংলগ্ন ডিঅ্যান্ডডি খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খালের পাশে একটি বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, গোড়ায় পানি জমে থাকায় সেই খুঁটিটি বিদ্যুতায়িত হয়েছিল। যখন জীবন সেই খুঁটিতে হাত দেন, তখন বিদ্যুতায়িত হয়ে তিনি পানিতে পড়ে মারা যান।
এদিকে যাত্রাবাড়ীর এসআই মো. জাকির হোসেন বলেন, শনিরআখড়া রাস্তার আইল্যান্ডের ওপর থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। বয়স আনুমানিক (২৫)। স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ লালবাগ আজিমপুর রোডের একটি বাড়ির অষ্টম তলার বেলকুনি থেকে গতকাল বিকেলে নিচে পড়ে যান আঙ্গুর নেছা নামে ৭২ বছর বয়সি এক বৃদ্ধা। পরে তার ছেলে মোর্তজা কামাল তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক সন্ধ্যায় মৃত ঘোষণা করেন। তার স্বামীর নাম মৃত হাজী আলী আক্কাস।