অবশেষে দেশপ্রেম, সততা ও দক্ষতার পুরস্কার পেলেন পুলিশের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম (রেজা)।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তাকে খুলনার ডিআইজি হিসাবে পদায়ন করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশ দপ্তরে ডিআইজি (অপারেশন) হিসাবে কর্মরত। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) খুলনার কর্মস্থলে যোগ দেবেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, পুলিশে রেজাউল করিম চাকরি জীবনের শুরু থেকে একজন শতভাগ সৎ, সাহসী ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসাবে সুপরিচিত। অথচ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাকে বিএনপিপন্থি কর্মকর্তা চিহ্নিত করে পাঁচবার পদোন্নতি বঞ্চিত করা হয়। এক পর্যায়ে তিনি চরম ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিতেও চেয়েছিলেন। ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়ও রেজাউল করিমের ওপর খক্ষ নেমে আসে।
তখন তিনি হবিগঞ্জ জেলার এসপি ছিলেন। ওই সময় সেনাসমর্থিত সরকারে দোর্দণ্ড প্রভাবশালী ছিলেন ব্রিগেডিয়ার বারী। যিনি ছিলেন হবিগঞ্জের বাসিন্দা। কিন্তু চাঁদাবাজি ও ক্ষমতা অপব্যবহারের কারণে ব্রিগেডিয়ার বারীর ছোট ভাই মেজবাউল বারী লিটনকে গ্রেপ্তার করতে এতটুকু পিছ-পা হননি এসপি রেজা। এতে তিনি চরম সংক্ষুব্ধ হন। এরপর তাকে হটাতে ডিজিএফআই থেকে গোপনীয় প্রতিবেদন পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। ওই প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেন তৎকালীন সংস্থাটির ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুন খালিদ।
সেখানে বলা হয়, এসপি রেজাউল করিম গোপনে প্রতিদিন স্থানীয় বিএনপির নেতাদের সঙ্গে মিটিং করেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে নানাভাবে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। যদিও পরবর্তীতে ব্রিগেডিয়ার বারীর চাপে এসপি রেজাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে আনা হয়।
এদিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ওই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দফায় দফায় ডিআইজি পদে পদোন্নতি বঞ্চিত করা হয়। তবে সৎ ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসাবে পুলিশের মধ্যে ভাবমূর্তি ভালো হওয়ার কারণে তিনি শুধু তৎকালীন সময়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সুপারিশে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান।
পুলিশ সূত্র জানায়, পুলিশের ১৭তম বিসিএস’র মেধাবী কর্মকর্তা রেজাউল করিম চাকরি জীবনে প্রতিটি কর্মস্থলে সততা ও সাহসের সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি এতটাই সৎ হিসাবে পরিচিতি যে সোর্সমানির একটি টাকাও কখনও নিজের জন্য খরচ করেননি। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে পুলিশ পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখেন তিনি। এসব বিষয়ে তার ব্যাপক সাফল্য রয়েছে।
এছাড়া গত ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তিনি প্রতিটি জেলার এসপিদের সার্বক্ষণিক মনিটরিং করেন। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বক্স চৌধুরী নানা রকম অন্যায় তদবির করলেও তিনি তা শোনেননি। এ কারণে তাকে নানাভাবে হয়রানিও করা হয়। ডিআইজি রেজাউল করিমের এ পোস্টিং খুলনাবাসীসহ বিভাগের সবক’টি জেলার মানুষের জন্য নিঃসন্দেহে বড় সুখবর।
তিনি নির্ঘাত শিগগির সন্ত্রাসীদের কাছে বড় এক আতঙ্কের নামে পরিণত হবেন। কোনো খুনি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী কেউ আর এক মুহূর্ত স্বস্তিতে দিন পার করতে পারবে না।