ইয়েমেনে তীব্র সংঘর্ষে নিহত ৮০ হুথি যোদ্ধা

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৯ এএম

ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর মারিবের উপকণ্ঠে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ৮০ জন হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির সেনাবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। জ্বালানি-সমৃদ্ধ মারিব শহর দখলের লক্ষ্যে হুথিরা হামলা জোরদার করার পর সেখানে নতুন করে ব্যাপক লড়াই শুরু হয়েছে। খবর আরব নিউজের। 

ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সামরিক গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আল-হাতেমি রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) আরব নিউজকে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় মারিবের দক্ষিণাঞ্চলের হারেব, মালা ও উম রাইশ এলাকায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের তীব্র লড়াই হয়েছে। সরকারি বাহিনীকে যুদ্ধবিমান ও ড্রোন দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে।

আল-হাতেমির দাবি, সরকারি বাহিনী হুথিদের হামলা প্রতিহত করে ৮০ জনের বেশি যোদ্ধাকে হত্যা এবং নয়টি সামরিক যান ধ্বংস করেছে।

তিনি বলেন, 'হুথিদের ৮০ জনের বেশি যোদ্ধা নিহত হয়েছে। বাকিরা পালিয়ে গেছে এবং নয়টি সামরিক যান ধ্বংস করা হয়েছে।'

ইয়েমেনি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মারিব প্রদেশের বিভিন্ন ফ্রন্টলাইনজুড়েও যুদ্ধবিমান দিয়ে হুথিদের অবস্থানে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় যোদ্ধাদের সমাবেশ, সামরিক রসদ ও শক্তিশালী ঘাঁটি লক্ষ্য করা হয়।

মারিব শহরে ইয়েমেনে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সবচেয়ে বড় সমাবেশ রয়েছে। গত এক দশকে যুদ্ধ ও হুথিদের দমন-পীড়ন থেকে পালিয়ে সেখানে ২০ লাখের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। শহরটি একই সঙ্গে তেল ও গ্যাসক্ষেত্র এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। 

মারিব দখলের লক্ষ্যে হুথিদের ধারাবাহিক অভিযানে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছেন। তবে এসব কোনো অভিযানেই শহরটি দখল করতে পারেনি হুথিরা।

২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হুথিরা তাদের বড় ধরনের অভিযান বন্ধ করে দেয়।

আল-হাতেমি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি বাহিনীর ব্যাপক হামলার মুখে মারিবের উপকণ্ঠের কয়েকটি অবস্থান থেকে হুথি যোদ্ধারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।

এদিকে শনিবার রাজধানী সানা, আমরান, হোদেইদা এবং হুথি-নিয়ন্ত্রিত অন্যান্য এলাকায় অন্তত ৫০ জন যোদ্ধার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও ছিলেন। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয়েছেন।

আল-হাতেমির দাবি, হুথিরা প্রকাশ্যে যে সংখ্যক যোদ্ধার মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে, তা প্রকৃত যুদ্ধক্ষেত্রের প্রাণহানির ১০ শতাংশেরও কম। তাঁর অনুমান, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হচ্ছে। মনোবল ভেঙে পড়া ঠেকাতে হুথিরা প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা গোপন করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, হুথিরা প্রাণহানিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং তাদের যোদ্ধাদের কেবল লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যবহার করছে। ইয়েমেনের অন্যত্র, তাইজে দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হুথিদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর তারা শহরের পশ্চিমে অবস্থিত নোমান পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আশপাশের পার্বত্য এলাকায়ও সংঘর্ষ হয়েছে।

এদিকে ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় লোহিত সাগর উপকূলে মোকা ও বাব আল-মান্দাবের আশপাশের এলাকাসহ সাম্প্রতিক সামরিক অগ্রগতির পর হুথিরা লাহিজ প্রদেশের আল-মাদারিবাহ ওয়াল-আরা জেলার পাশাপাশি তাইজের এলাকাগুলোতে সরকারি বাহিনীর অবস্থানে হামলা চালাচ্ছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত