আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট সামনে রেখে স্পিন মোকাবিলায় বিশেষ প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দুবাই যাওয়ার আগে ছয় দিনের স্কিল ট্রেনিংয়ের প্রথম দিনে গতকাল মিরপুরে স্পিন বোলিং মেশিন ব্যবহার করে ব্যাটারদের অনুশীলন করানো হয়। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ব্যাটিং এবং বোলারদের দীর্ঘ স্পেল করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল জানান, আফগানিস্তানের স্পিন শক্তির বিষয়টি মাথায় রেখেই অনুশীলনে সব ধরনের প্রস্তুতি রেখেছেন তারা। এ নিয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে আশরাফুল বলেন, ‘হয়তো-বা তারা স্পিন উইকেট রাখতে পারে। আমরা সেই ধরনের প্রশিক্ষণগুলোই করছি। দুবাই যাওয়ার আগে ছয়টা স্কিল ট্রেনিং করার সময় পাচ্ছি। গতকাল আমাদের সেটা শুরু হয়েছে। আরও পাঁচ দিন করব। সেই জায়গায় সব অপশনই রাখার চেষ্টা করছি।’
দিনের অনুশীলন নিয়ে আশরাফুল আরও বলেন, ‘দুপুরের খাবারের আগে দুই ঘণ্টা, তারপর দুপুরের খাবারের পরে আরও এক-দেড় ঘণ্টা অনুশীলন করেছি। ব্যাটাররা যেন দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করতে পারে এবং বোলাররাও যেন দীর্ঘ বিরতিহীন স্পেল বল করতে পারে, সেই অনুশীলনটাই আমরা করেছি। যাওয়ার আগে আমাদের দীর্ঘ স্পেল বোলিং এবং দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করার অনুশীলনটাই করছি।’
এই টেস্টে নাহিদ রানা না থাকলেও পেস আক্রমণ নিয়ে অবশ্য খুব বেশি দুশ্চিন্তা করছেন না আশরাফুল। চোটে থাকা এই পেসারের জায়গায় যারা সুযোগ পাবেন, তারা নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি, ‘নাহিদ রানা প্রথম টেস্ট ম্যাচে অ্যাভেলেবল না। পরে হয়তো-বা সে অ্যাভেলেবল হবে। নির্বাচক, অধিনায়ক, কোচ উনারা সিদ্ধান্ত নেবেন। আমাদের বাকি পেস বোলাররা আলহামদুলিল্লাহ ভালো করছে। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে নাহিদ রানা ছিল না, তারপরেও আমরা আধিপত্য বিস্তার করে একটা টেস্ট ম্যাচ জিতেছি।’
জাতীয় দলে ফেরা জাকের আলীকেও ছন্দে দেখছেন আশরাফুল। দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের ‘এ’ দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা তাকে আরও প্রস্তুত করেছে বলে মনে করেন তিনি। ওপেনার ইসলামের সাম্প্রতিক রানখরা নিয়েও উদ্বেগ নেই আশরাফুলের, ‘সে কঠোর পরিশ্রম করছে, আশা করি সামনে যখনই খেলবে, ভালো করবে।’
১৮৩ জনের মধ্যে ব্যর্থ দুজন
জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) নতুন মৌসুম শুরুর আগে গতকাল জাতীয় স্টেডিয়ামের অ্যাথলেটিক ট্র্যাকে ফিটনেস পরীক্ষা দেন আট বিভাগীয় দলের প্রথম ও দ্বিতীয় একাদশের অধিকাংশ ক্রিকেটার। সব মিলিয়ে ১৮৩ জন অংশ নেন। তবে ব্যর্থ হয়েছেন দুজন। জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের স্পিনার সোহাগ গাজী ও সিলেটের ব্যাটসম্যান তৌফিক খান তুষার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১ হাজার ৬০০ মিটার দৌড় শেষ করতে পারেননি।
ফিটনেস পরীক্ষায় ব্যর্থদের অবশ্য এখনই ছিটকে যেতে হচ্ছে না। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে আরও দুটি সুযোগ পাবেন ক্রিকেটাররা। প্রতিটি পুনঃপরীক্ষার মধ্যে থাকবে ১০ দিনের বিরতি। অর্থাৎ প্রথমবার ব্যর্থ হওয়ার ১০ দিন পর দ্বিতীয়বার এবং সেখানেও ব্যর্থ হলে আরও ১০ দিন পর তৃতীয়বার পরীক্ষা দিতে পারবেন সোহাগরা। এ নিয়ে বিসিবির ট্রেনার ইফতেখার রহমান ইফতি বলেন, ‘কেউ যদি ফেল করে বা হয়তো অসুস্থ ছিল, তাহলে আমরা ১০ দিন পর আবার পরীক্ষা নেব। সেখানেও যদি ফেল করে, তাহলে আরও ১০ দিন পর আরেকটি পরীক্ষা নেওয়া হবে।’
তবে তিন দফা সুযোগেও যারা নির্ধারিত মান অর্জন করতে পারবেন না, তাদের জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত অপেক্ষা করছে। এমন ক্রিকেটারদের এনসিএলে খেলার সুযোগ দেবে না ক্রিকেট বোর্ড। এমনকি বিসিবি যেসব টুর্নামেন্টে ফিটনেসের মানদণ্ড প্রযোজ্য, সেসব প্রতিযোগিতাতেও তাদের বিবেচনা করা হবে না। বোর্ড সূত্রে আরও জানা গেছে, পরবর্তী মৌসুমের প্রথম শ্রেণির চুক্তির ক্ষেত্রেও তারা বিবেচনার বাইরে থাকবেন।
তবে ফিটনেস পরীক্ষায় ব্যর্থদের নিয়ে কাজ করা হবে বলে মন্তব্য করেন ইফতি, ‘যাদের ফিটনেসে দুর্বলতা আছে, তাদের দায়িত্ব আমরা নেব। শেষ পর্যন্ত তারা যদি ফেল করে, তাহলে তো কোথাও যেতে পারবে না। তাই আমরা চেষ্টা করব তাদের পাস করাতে। সে ক্ষেত্রে ফিটনেস ট্রেনিং বাড়ানো হবে। তবে তারা খেলতে পারবে কি না, সেটা বলতে পারছি না, কারণ সেই সিদ্ধান্ত বোর্ডের।’
গতকাল প্রথম দফার পরীক্ষায় অধিকাংশ ক্রিকেটারই নির্ধারিত সময়ের আগে দৌড় শেষ করেন। পেসারদের জন্য ১ হাজার ৬০০ মিটারে মানদণ্ড ছিল ৭ মিনিট এবং অন্য ক্রিকেটারদের জন্য ছিল ৭ মিনিট ২০ সেকেন্ড। যেখানে সাব্বির রহমান ৬ মিনিট ২২ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেন। নুরুল হাসান সোহানের সময় লেগেছে ৬ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড। নাঈম শেখ আরও দ্রুত দৌড়েছেন, তার সময় লেগেছে ৬ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সভাপতি ও খুলনা বিভাগের অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পরীক্ষা শেষ করেছেন। তার সময় ছিল ৬ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের মতো।
ফিটনেস পরীক্ষায় সবচেয়ে ভালো ফলগুলোর একটি এসেছে পেসার রিপন মণ্ডলের কাছ থেকে। জানা গেছে, ডানহাতি এই পেসার মাত্র ৫ মিনিট ৪১ সেকেন্ডে ১ হাজার ৬০০ মিটার দৌড় শেষ করেছেন। আরেক উঠতি পেসার অনিক দেব বর্মন সময় নিয়েছেন ৫ মিনিট ৫২ সেকেন্ড। সর্বশেষ যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়া আজিজুল হাকিমও ৬ মিনিটের কম সময়ে পরীক্ষা শেষ করেছেন।
আজও জাতীয় স্টেডিয়ামে ফিটনেস পরীক্ষার কার্যক্রম চলবে। এরপর প্রথম দফায় যারা নির্ধারিত মানে পৌঁছাতে পারবেন না, তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার আয়োজন করবে ক্রিকেট বোর্ড।