ঝিনাইদহের মহেশপুরে ১৮ মাস আগে নিখোঁজ হন ১৭ বছর বয়সী কিশোরী নিঝুম খাতুন। এ ঘটনায় নিহতের মা মোছা. তাসলিমা খাতুন বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল মহেশপুর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরে তিনি একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এর পরই তদন্তে নামে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল। তদন্তে বেরিয়ে আসে কিশোরী নিঝুম হত্যার লোমহর্ষক ঘটনা।
পুলিশের দাবি, জিমের সঙ্গে নিঝুমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ১৩ মার্চ ২০২৫ বেড়ানোর কথা বলে নিঝুমকে পাবনার ঈশ্বরদী থানাধীন পাকশী রেলস্টেশনে নিয়ে যান জিম। সেখানে নিঝুম জিমকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিলে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে নিঝুমকে থাপ্পড় মারেন প্রেমিক মাশরিকুল রহমান জিম। এ সময় নিঝুম খাতুন অচেতন হয়ে পড়লে তাকে রেললাইনের পাশের নির্জন জঙ্গলে নিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে জঙ্গলের পাশে নির্জন স্থানে রেখে ট্রেনে করে গ্রামে ফিরে যান জিম।
এদিকে, গত বছরের ১৭ মার্চ ঈশ্বরদী থানা-পুলিশ পাকশী রেলস্টেশন এলাকার একটি নির্জন স্থান থেকে অর্ধগলিত অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে পাবনা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহায়তায় মরদেহটি দাফন করা হয়। ওই ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়।
দীর্ঘ ১৮ মাস পর নিঝুমের প্রেমিক জিমকে আটক করা হয়। আটকের পর ২০ সেপ্টেম্বর তাকে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় জিম নিঝুমের লাশের সন্ধান দেন। জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার এই ঘটনা জানান।
পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হন সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সদস্যরা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জিমকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে কিশোরী নিঝুম হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।
ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার আশিস বিন হাসান বলেন, পুলিশ ও সাইবার ইনভেস্টিগেশন সেলের সমন্বয়ে রহস্য উদ্ঘাটন করে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।