দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে সরকার: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম

জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রধান লক্ষ্য—আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক প্রতিরোধ, শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্য দূর করা এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ে তোলা। তিনি জানান, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে দিন-রাত কাজ করছে সরকার। আমরা ক্ষমতা উপভোগ করতে কিংবা নিজেদের ভাগ্য বদল করতে আসিনি; এসেছি এ দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদল করতে এবং তাদের রাষ্ট্রীয় সেবা নিশ্চিত করতে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বগুড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ ‘করতোয়া’য় জেলা প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা। সভায় বগুড়ার জেলা পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়া একজন সামরিক কর্মকর্তা, প্রেসিডেন্ট এবং একটি ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে আজিজুল হক কলেজের ছাত্র হিসেবে তার স্বাধীনতার ঘোষণার প্রভাব আমি নিজ চোখে দেখেছি। সিপাহী-জনতার বিপ্লবের পর রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে এসে তিনি দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে মজবুত করেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করেন এবং পোশাক খাত, পল্লী বিদ্যুৎ ও বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি শুরু করেন। তিনি গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনঃস্থাপন করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচার হটিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে বেগম খালেদা জিয়া অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন। ২০০১ সাল থেকে তার অধীনে চাকরি করার সুবাদে দেখেছি, শহীদ জিয়ার মত তিনিও ছিলেন এক অনন্য, স্বচ্ছ ও সৎ মানুষ; যিনি রাষ্ট্রের এক টাকা অপচয়ও সহ্য করতেন না। পরবর্তীতে দীর্ঘ দেড় যুগের ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যায়। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনসহ দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করছি।

দুর্নীতি রোধ ও সুশাসনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার প্রধান লক্ষ্য—আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক প্রতিরোধ, শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্য দূর করা এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ে তোলা। রাষ্ট্রীয় অপচয় বন্ধে তিনি নিজে মাত্র ১৯ জন সফরসঙ্গী নিয়ে বিদেশে গিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে আইসিটি মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য দপ্তরের মাধ্যমে সব ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন চালু করা হচ্ছে।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি সত্ত্বেও সঠিক নীতি গ্রহণের ফলে আশপাশের দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন হলেও আমাদের মুদ্রার মান স্থিতিশীল রয়েছে। অতিরিক্ত নোট না ছাপিয়ে সম্পদ তৈরির চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে একই ধরনের ব্যাগ, পোশাক ও মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সরাসরি অর্থ পৌঁছাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় উপাসনালয় পরিচালনাকারীদের সহযোগিতার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

পরিবেশ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা দূর করতে সারা দেশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ঢাকার খাল উদ্ধারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে এখন সাগরের লবণাক্ত পানি শোধন করে সারা দেশে খাবার পানি সরবরাহের মতো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।

বগুড়াকে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও গতিশীল মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সিভিল সার্জনসহ সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত