ইয়াঙ্গুনের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

ইয়াঙ্গুনের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মো।

তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে চীন-বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডোর নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম চেম্বার ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য এবং মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন ও সিথওয়ে নৌবন্দরের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের পুনরায় নৌ-যোগাযোগ চালুর বিষয়েও মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

নগরীর আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বলেন, মিয়ানমারে রাশিয়ার সহযোগিতায় একটি এলএনজি হাব গড়ে তোলা হচ্ছে। এছাড়া দেশটিতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার হলে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে সহজেই এলএনজিসহ বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে টেকসই উন্নয়নের জন্য দুই দেশের সরকার-টু-সরকার এবং ব্যবসায়ী-টু-ব্যবসায়ী যোগাযোগ স্থাপনের বিকল্প নেই। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে চাল, আদা, রাবার, মাছসহ বিভিন্ন পণ্য এবং বাংলাদেশ থেকে ফার্মাসিউটিক্যালস, রাসায়নিক ও পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য পণ্য আমদানির সুযোগ রয়েছে।

মতবিনিময়কালে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, মিয়ানমার প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ একটি দেশ। তাই সার্বিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশ তথা চট্টগ্রামের পাশের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার। তাই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে উপকূলীয় জাহাজ চলাচল, সড়ক যোগাযোগ ও সরাসরি ফ্লাইট চালুর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম এ অঞ্চলের আঞ্চলিক ও বিনিয়োগ হাবে পরিণত হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরও পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের অন্যতম এভিয়েশন হাব হতে পারে। সরকারও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে ঘিরে আলাদা মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনসহ অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে ফ্লাইট যোগাযোগ আরও জোরদার হবে।

পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন ইকোনমিক করিডোর বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্যও সম্প্রসারিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এম. এ. ছালাম, সাবেক পরিচালক এস. এম. আবু তৈয়ব, মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সেলর হতেত মিয়াত লুইন, মিয়ানমার প্রজাতন্ত্রের অনারারি কনসাল জেনারেল এ. এইচ. এম. হাকিম আলী, চেম্বার পরিচালক আমান উল্লা আল ছগির (ছুট্টু), মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ার, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম, নটিকার চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন শফিক ভূঁইয়া, প্যান মেরিন লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আসলাম, মাইনার মেরিন সার্ভিসেসের মোহাম্মদ রেজাউল করিম, উইম্যান চেম্বারের ইয়ং এন্টারপ্রেনারস অ্যান্ড ইয়ুথ লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারপারসন ফারাহ সুলতানা শহীদ ও চৌধুরী গ্রুপের ডিএমডি শাহেদ সরোয়ার বক্তব্য দেন।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত