মাত্র সাত বছর আগে প্লাস্টিকের ব্যাট আর টেনিস বল হাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ পেয়েছিলেন ইভোনে ভিলদোসোলা। সেই তিনিই এখন চিলির নারী জাতীয় দলের উদ্বোধনী ব্যাটার! আরও রোমাঞ্চকর বিষয় হলো, যে দলের হয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন, সেই দলের অধিনায়ক আর কেউ নন—তাঁরই ১৮ বছর বয়সী নাতনি ক্যামিলা ওয়ারসে।
চলতি বছরের এপ্রিলে ৭০ বছর বয়সে চিলির জাতীয় দল ‘লাস লোইকাস’-এর হয়ে কোস্টারিকার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পা রাখেন ভিলদোসোলা। নাতনি ক্যামিলা ওয়ারসের অধিনায়কত্বে অভিষেক হওয়া এই প্রবীণ ব্যাটার বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অনন্য নজির গড়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে তিনি এখন রেকর্ডের পাতায়। সামগ্রিক পেশাদার ক্রিকেটের ইতিহাসে ১৯৫০-৫১ মৌসুমে ৭২ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া ভারতের রাজা মহারাজ সিংয়ের পর ভিলদোসোলাই সবচেয়ে প্রবীণ।
ভিলদোসোলার এই অলৌকিক ক্রিকেট যাত্রার সূচনা ২০১৯ সালে। চিলির নিউবলে অঞ্চলভিত্তিক দল ‘লাস লোইকাস’ (স্থানীয় এক পাখির নামে নামকরণ) একটি ‘মা-মেয়ে’ ক্রিকেট ইভেন্টের আয়োজন করেছিল। তৎকালীন অধিনায়ক জ্যানেট গার্সেসের উদ্যোগে আয়োজিত সেই ইভেন্টে ১৬ বছর বয়সী নাতনি ক্যামিলার পীড়াপীড়িতে মাঠে যান ৭০ ছুঁইছুঁই ভিলদোসোলা।
স্মৃতিচারণ করে ভিলদোসোলা বলেন, "আমি ভেবেছিলাম নাতনির খেলা দেখতে আসা বন্ধুদের জন্য রান্না করাই হয়তো আমার কাজ। কিন্তু মাঠের বল-ব্যাটের ছোঁয়া আমাকে বদলে দিল। জীবনের প্রথম ক্রিকেট ব্যাট ধরে এতটাই ভালো লেগেছিল যে আর পিছপা হইনি।"
মা লরেতো এবং নাতনি ক্যামিলার নিয়মিত অনুপ্রেরণায় একটু একটু করে ক্রিকেটের প্রেমে পড়েন তিনি। ২০২৬ সালের এপ্রিলে কোস্টারিকার বিপক্ষে যখন তিনি ওপেনিংয়ে নামেন, সঙ্গে ছিলেন নাতনি ক্যামিলাও। ম্যাচে ভিলদোসোলা ডাক (শূন্য রান) মারলেও তাঁর এই অংশগ্রহণ স্কোরবোর্ডের যেকোনো রানের চেয়ে অনেক বড় বার্তা দেয়।
"আমার যৌবনে, আজ থেকে অন্তত ৫০ বছর আগে বাস্কেটবল, ভলিবল বা ফুটবল খেলার চল ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা তো দূরের কথা, কোনো খেলাধুলাতেই পেশাদার ক্যারিয়ারের কথা ভাবিনি। তবে ল্যাটিন আমেরিকার মানুষ হিসেবে আমরা সব সময় শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকতে পছন্দ করি। সেই তাড়না থেকেই মাঠে নামা, জেতার চেয়ে অংশগ্রহণ করাই ছিল আমার মূল উদ্দেশ্য," বলছিলেন ভিলদোসোলা।
নাতনি ও অধিনায়ক ক্যামিলা ওয়ারসে বলেন, "আমার নানি সব সময় চঞ্চল ছিলেন, কিন্তু কখনো ভাবিনি তিনি আমার দলের সতীর্থ হবেন! মাঠে নানির উপস্থিতি পুরো দলের জন্যই এক বিশাল অনুপ্রেরণা। মাঝেমধ্যে নানিকে মাঠে নির্দেশ দিতে একটু অদ্ভুত লাগে, তবে দিনশেষে একসঙ্গে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলাটা অসাধারণ আনন্দের।"
৭০ বয়স হওয়ার কারণে ভিলদোসোলার দলের অনেক সতীর্থের বয়স তাঁর চেয়ে প্রায় ৫০ বছর কম। এ নিয়ে হাসিমুখে ভিলদোসোলা বলেন, "আমার জয়েন্টগুলোর কারণে বোলিং করতে পারি না, তাই ব্যাটিংটাই পছন্দ। দলের তরুণদের সাথে মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়, তবে নিজের নাতনির অধিনায়কত্বে খেলা আমার জন্য অনেক বড় গর্বের ও মর্যাদার।"
সূত্র: ক্রিকইনফো