মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ফুটবলের দুটি সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক মুকুট—ইউরো ও বিশ্বকাপ—জিতে ইতিহাস গড়েছেন স্প্যানিশ ওয়ান্ডারকিড লামিনে ইয়ামাল। বার্সেলোনা ও স্পেনের এই তরুণ তুর্কির নৈপুণ্যে আজ পুরো ফুটবল বিশ্ব বুঁদ হয়ে আছে। সম্প্রতি স্পেনের লা রোসাসে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের মাঠের কৌশল, মেসির সাথে স্মৃতি এবং ফুটবলের প্রতি তাঁর মানসিকতার কথা তুলে ধরেছেন।
লিওনেল মেসির সাথে শৈশবের সেই বিখ্যাত স্নানের ছবি প্রসঙ্গে ইয়ামাল জানান, তিনি চাননি ছবিটি এতদিন প্রকাশ্যে আসুক। তিনি বলেন, "আমি চাইনি সবাই আমাকে মেসির সাথে তুলনা করুক। আমি মেসির মতো হতে চাইনি, চেয়েছিলাম নিজের পরিচয়ে 'লামিনে' হয়ে উঠতে। তাই বাবাকে বলেছিলাম ছবিটি লুকিয়ে রাখতে। আজ যখন আমি ফুটবলে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পেরেছি, তখন এ নিয়ে আমার আর কোনো আপত্তি নেই।"
জুলাইয়ে নিউইয়র্কে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পর লিওনেল মেসিকে জড়িয়ে ধরার সেই আবেগঘন মুহূর্তটি সম্পর্কে ইয়ামাল বলেন, ফুটবলের জন্য মেসির অবদান ও ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তিনি তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, 'আমি তাকে বলি—ফুটবলকে আপনি যা কিছু দিয়েছেন, তার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আমি ক্যামেরার সামনে সুন্দর দেখানোর জন্য বা ছবি তোলার উদ্দেশ্যে কিছু করি না; ওই অনুভূতি ও শ্রদ্ধা একদম ভেতর থেকেই এসেছিল।'
মেশিন বনাম 'বিশেষ স্ফুলিঙ্গ'
আধুনিক ফুটবল সম্পর্কে নিজের অভিমত প্রকাশ করতে গিয়ে ইয়ামাল জানান, বর্তমান ফুটবল অনেকটাই ছকবাঁধা বা 'মেকানাইজড' হয়ে গেছে। ডিফেন্ডাররা কোচদের রোবটের মতো দেওয়া নির্দেশনা মেনে তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করে। তবে তিনি এবং পেদ্রির মতো খেলোয়াড়দের মধ্যে সেই "বিশেষ স্ফুলিঙ্গ" রয়েছে, যা কোনো রোবটের পক্ষে আটকানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, "আমি প্রতিপক্ষকে ড্রিবল করার সময় নেইমারের ভিডিও থেকে শেখা সেই চমকগুলো ব্যবহার করি, যাতে তারা আমার চাল আগে থেকে আঁচ না করতে পারে।"
ব্যালন ডি'অর ও পারিবারিক ভাবনা
ব্যালন ডি'অর জয়ের দৌড়ে নিজেকে অন্যতম দাবিদার মনে করেন ইয়ামাল। বয়সের কারণে তাঁকে হয়তো পিছিয়ে রাখা হতে পারে বলে গুঞ্জন থাকলেও তিনি বিশ্বাস করেন, ক্রমাগত ট্রফি ও ম্যাচ জিতে তিনি সব আলোচনার অবসান ঘটাবেন।
নিজের খেলায় কোনো ভয় না থাকার কথা জানিয়ে ইয়ামাল বলেন, "আমার পরিবার একসময় বেঁচে থাকার জন্য যে কষ্ট করেছে, সেটাই ছিল আসল ভয়। এখন আমি ফুটবল খেলি খেলার প্রতি ভালোবাসা থেকে এবং পরিবারের ভালো থাকার জন্য। ফুটবলে কোনো চাপ নেই—আমি মাঠে গিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত শুধুই উপভোগ করি।"
মাঠে বল পেলেই দর্শকদের দাঁড়িয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা ও সমর্থকদের গর্জনকে নিজের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে বর্ণনা করে এই বিস্ময় বালক জানান, অবসর নেওয়ার দিন পর্যন্ত তিনি এই রোমাঞ্চ ও আনন্দ ধরে রাখতে চান।